অ্যান্থিয়া করিমের রান্নায় পথচলা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ২০:৪২

নিজের একটা ইউটিউব চ্যানেল ছিল তার। চ্যানেলে রান্নার ভিডিও দিতেন তিনি। রান্নার ভিডিও দেখে মানুষের নজর কেড়ে যায় তার প্রতি। তার রান্নার ভিডিও দেখে সরাসরি তার রান্না খাওয়ার জন্য আকুল হয়ে পড়ে তার ভক্তরা। সবার আবদার মেটাতে তিনি হয়ে গেলেন ব্যবসায়ী।  

অ্যান্থিয়া করিম বড় হয়েছেন তার নিজ জেলা পঞ্চগড়ে। কিন্তু ঢাকায় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিংয়ে বিবিএ করেন তিনি। একটি চাকরিও করছিলেন তিনি কিন্তু নিজে কিছু একটা করার তাড়না তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে। তার হোম মেইড রান্নার ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যান্থিয়াস কিচেন তার বহিঃপ্রকাশ। সাধারণত বাড়িতে বানানো খাবার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি। পোলাউ, মাংস, কালাভুনা, হালুয়া, নাড়ু, রসমালাইসহ নানান ধরনের খাবার নিয়ে কাজ করেন তিনি। ঢাকার মধ্যে সব ধরনের খাবার ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। সাধারণত ২৪ ঘণ্টা আগে অর্ডার নিয়ে থাকেন তিনি। অর্ডার পাওয়ার পরে একদম ফ্রেশ জিনিসপত্র দিয়েই তৈরি করেন খাবার। মানের কাছে, সততার কাছে কোনো আপস করতে রাজি নন তিনি। শুকনা খাবারগুলো ডেলিভারি দিয়ে থাকেন তার নিজ জেলা পঞ্চগড় আর ঠাকুরগাঁওয়ে। এসব জায়গার অর্ডারগুলো নিয়ে থাকেন পাঁচ দিন আগে। গুটি গুটি পায়ে পথ চলতে চলতে এখন তার অনেক গ্রাহক। কিছু গ্রাহক আছে যারা সবসময়ই খাবার নিয়ে থাকেন তার কাছ থেকে।

তিনি মনে করেন, তিনি যদি চাকরিও করতেন তাও তার বাসায় এসে রান্নাই করতে হতো। তাই সেই রান্নাটা মানুষের জন্য করার ইচ্ছা তার। পড়াশোনার সময় উদ্যোক্তা নিয়ে পড়েছেন। তখনই তার মাথায় আসে নিজে কিছু করার বিষয়টা। আর রান্না করা মানে শুধু রান্না করা না। একটা ব্যবসা করতে গেলে হিসাব, মার্কেটিংসহ নানান বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। অর্থাত্ অনেকে যেটা মনে করে যে, ব্যবসা করলে পড়ালেখা কাজে লাগে না, তা মনে করেন না তিনি। 

তিনি হোম মেইড খাবার নিয়েই কাজ করতে চান। মানুষকে বাড়ির খাবারের স্বাদ দিয়ে যেতে চান তিনি। কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা আসে, কিন্তু সেগুলো মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকেন তিনি। কাজে সাহায্য পেয়েছেন বাবা, মা, পরিবার ও স্বামীর কাছ থেকে।

সম্প্রতি অনলাইন গ্রুপ ‘মেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম’-এ (মি) যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রান্না করতে গেলে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। তাকে বাজার করতে হয়। বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করতে হয়। তাই কাজ করতে গিয়ে সবকিছুই যে একদম স্বচ্ছভাবে হয়ে যায় তা নয়। অনেক ঝামেলার সামনে পড়তে হয়। মানুষ পিছনেও অনেক কথা বলে। কিন্তু তিনি মনে করেন আমাদের পারিপার্শ্বিকতা যতই কঠিন হোক না কেন নিজের পরিবার পাশে থাকলে ঠিকই সব বাধা উতরে যাওয়া সম্ভব।