কোথায় সেই চিরচেনা শাটলের সুর? যে সুরে ঘুম ভাঙে শত শত শিক্ষার্থীর। কোথায় সেই ক্লাস আর সহপাঠীদের ব্যস্ততা? প্রিয় ক্যাম্পাসটা এখন পুরোটাই ফাঁকা। যে ক্যাম্পাসে পাখির কিচিরমিচির শব্দে সকাল আসে, যেখানে চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যেখানে জমে ওঠে আড্ডা। জীবনের এই স্বাভাবিক গতি পালটে গেছে রূপকথার গল্পের মতোই। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই এখনো প্রাণের এই ক্যাম্পাসটাতে। কাটা পাহাড়ের রাস্তায় কত শত মানুষের পদচিহ্ন ছিল! কলার ঝুপড়ি, লেডিস ঝুপড়ির হইচই, শহিদ মিনার থেকে ভেসে আসা শব্দ, কাটা পাহাড়ের রাস্তায় সোডিয়াম লাইটগুলোর মায়াবী আলো, ঝুলন্ত সেতু, দোকানের ভিড়, দোলা সরণি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বায়োলজির পুকুরপাড়, হতাশার মোড়, ভূতের বাড়ি, পামবাগান, জারুলতলা, মুক্তমঞ্চ, বুদ্ধিজীবী চত্বর, কলা ফ্যাকালটির পেছনের ঝরনা, দল বেঁধে রোমাঞ্চকর চালন্দায় যাওয়ার সুখস্মৃতি আজ বড্ড মনে পড়ে। অসুস্থ এই পৃথিবীটা হয়ে উঠুক সুস্থ। শাটলের ক্যাম্পাসটা হয়ে উঠুক আবার হাজার জনতায় মুখরিত। জীবন ফিরে পাক তার স্বাভাবিক গতি—এই কামনায়ই আমরা এখন দিন গুনি।
—শেখ সুমন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
