প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাত্ক্ষণিকভাবে নগদ মোটা টাকার লোভে মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে দেশের যুবসমাজকে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানটা বজায় থাকবে। তাই এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে কেউ যেন সম্পৃক্ত না হয়। শীতের আগমনে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে বাধ্যতামূলক করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা এবং বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস-২০২০ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ বছরের বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ২১ জন স্বনির্ভর যুবক এবং পাঁচটি সফল যুব সংগঠনকে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট ও খাম অবমুক্ত করা হয়। ‘মুজিবর্ষের আহ্বান, যুব কর্মসংস্থান’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদ্যাপিত হয়।
আমি ১০ জনকে চাকরি দেব—যুবকদের
মাথায় যেন এই চিন্তাটা থাকে
চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে কীভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা যায়, সেই চিন্তা মাথায় রেখে যুবকদের দেশ গঠনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ডিগ্রি নিয়েই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কীভাবে কিছু করা যায় সেই চিন্তা করতে হবে। নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করতে হবে। আমিই বস হব, আমিই ১০ জনকে চাকরি দেব। আমার মধ্যে সেই শক্তিটা আছে, সেই শক্তিটা আমি কাজে লাগাব। এই চিন্তাটা মাথায় যেন থাকে আমাদের যুবকদের।’
সবাই মাস্ক পরবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন
দেশে করোনা ভাইরাস মহামারি শুরুর পর বিভিন্ন বন্দরে যে ধরনের নজরদারি ও সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা আবার ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পুনরায় ব্যাপকভাবে দেখা দেওয়ায় ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। এখন আবার সময় এসে গেছে, যারা বাইরে থেকে আমাদের দেশে আসবেন তাদের পরীক্ষা করা, কোয়ারেন্টাইনে রাখা। দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর দেশের অর্থনীতি যেমন গতিশীলতা পেয়েছে, তেমনি আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘যে কোনো কাজে সবাই মাস্ক ব্যবহার করবেন। কারণ যেভাবে এই করোনা ভাইরাস থেকে মানুষকে রক্ষা করেছি, সেভাবেই যেন রক্ষা করতে পারি।’
মুজিববর্ষে শতভাগ গৃহ আলোকিত করা হবে
তার সরকার মুজিববর্ষে শতভাগ গৃহ আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত্ দিচ্ছি, রাস্তাঘাট করে দিচ্ছি, পাশাপাশি নৌপথ, রেলপথ, বিমানসহ সব পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটাই উদ্দেশ্য, আমাদের যুবসমাজের মধ্যে যে মেধা, মনন আছে তা যেন তারা কাজে লাগাতে পারে। তারা যেন নিজেরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। নিজেদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান শুরু বা স্টার্টআপের জন্য মূলধন হিসেবে তার সরকার বাজেট বরাদ্দ রেখেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি ক্ষেত্রটা এখন সব থেকে আধুনিক এবং সেজন্য যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সাররা যে কাজ করছেন, তারা যেন একটা সার্টিফিকেট বা স্বীকৃতি পান। কেননা, তারাও অর্থ উপার্জন করছেন, সেটাও একটা কাজ।
