শিশু-কিশোর-তরুণ-তরুণীদের ইতিহাস জানার সুযোগ মিলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’ প্যাভিলিয়নে। দৃষ্টিনন্দন এ প্যাভিলিয়নে ভেতরের দেওয়াল সাজানো হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সোনার বাংলার উত্তরণে অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনীতির খণ্ডচিত্র, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন আর সংগ্রামী জীবনের নানা দুর্লভ আলোকচিত্র। এর মাঝে স্থান পেয়েছে তত্কালীন সময়ে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের কাটিং। মেলায় আসা সব বয়সীর কাছে যা ইতিহাস জানার এক বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে।
মেলার প্রধান গেট পার হয়ে সোজা মাঝামাঝি গেলেই দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’ চোখে পড়বে। প্যাভিলিয়নের ভিতরে ঢুকতেই একটা ভালো লাগা আবেশ কাজ করবে হূদয়ে। প্যাভিলিয়নের চারিদিকে সাদা দেওয়ালে ঝুলছে হরেক রকমের ছবি। যেসব ছবিতে ফুটে উঠেছে অদম্য এক দেশের ইতিহাস আর তার স্থপতির কথা। বঙ্গবন্ধুর ৩ হাজার ৫৩ দিনের জেল জীবনের বিবরণ, স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক আর বাংলাদেশ গঠনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সহযোগিতার তথ্যপূর্ণ পেপার কাটিং দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন। গত বেশ কয়েক বছর ধরে মেলায় এ ধরনের আয়োজন করা হয়। যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশ ও এর স্থপতির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। এমন আয়োজন আরও বড় পরিসরে জাতির সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দর্শনার্থীদের।
গতকাল মেলার এ প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ১৩৯টি আলোকচিত্র টাঙানো হয়েছে প্যাভিলিয়নের দেওয়ালে দেওয়ালে। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষ। শিশু, কিশোররা আসছে অভিভাবকদের সঙ্গে। দেওয়ালে ছবি দেখে নানা প্রশ্ন করে তারা জেনে নিচ্ছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস। তরুণ-তরুণীরা ঘুরে ঘুরে ছবি দেখার পাশাপাশি পছন্দের ছবির পাশে দাঁড়িয়ে সেলফিও তুলে নিচ্ছেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর উপর লেখা নানা রকম বই পুস্তকও পাওয়া যাচ্ছে এখানে। যে কেউ চাইলে পছন্দের বইটি এখান থেকে কিনতে পারছেন। বিদেশিদেরও এ প্যাভিলিয়ন ঘুরে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদের ইতিহাস জানতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের আলোকচিত্রও দেওয়ালে টাঙানো হয়েছে। সেগুলোতে চোখ বুলাচ্ছেন ভিনদেশিরা। অন্য একটি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসের ভিডিও চিত্রও দেখানো হচ্ছে।
স্কুলে পড়ুয়া দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর থেকে মেলায় এসেছেন কবির হোসেন। বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে ঘুরে ঘুরে সন্তানদের ইতিহাস সম্পর্কে জানাচ্ছেন তিনি। কথা হলে জানান, মেলায় এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিশু, কিশোররা ইতিহাস জানার সুযোগ পায়। তাই সন্তানদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে এসেছি।
