অভিনয়ের ক্ষেত্রে বরাবরই নিজের ছন্দে ক্যারিয়ার সাজিয়েছেন দীপা খন্দকার। শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে লম্বা রেসে নিজের কাজের ভেতর দিয়েই সমৃদ্ধ করেছেন ক্যারিয়ার। সম্প্রতি ‘জীবন যেখানে যেমন’ নামের একটি বায়োগ্রাফিক্যাল অনুষ্ঠানে অকপটে কিছু কথা বলেন নিজের জীবন নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
অভিনয়ে আসাটা আপনার জীবনে একটা কাকতালীয় বিষয়।
শুরুটা শুনতে চাই...
আমার নিজের ক্যারিয়ার প্ল্যানে কখনো ছিল না যে, আমি অভিনয় করবো। বরং আমার বোনের অভিনয়ে আসার কথা ছিল। একইভাবে আমি একটি এয়ারলাইন্সে জব করেছি। সেটিও আমার আগ্রহের জায়গা ছিল না। আমার বোন সেখানে চাকরি করতে চেয়েছিল। ও কিন্তু দেখতে আমার চেয়ে অনেক সুন্দর। কিন্তু সত্যিই মানুষের নিয়তি উপরওয়ালাই নির্ধারণ করেন।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকার রেসে আপনাকে পাওয়া যায়নি কখনো। এমনকি সেই অস্থিরতাও নেই আপনার ভেতরে। এটা কী ইচ্ছে করেই?
দেখুন, আমি খুব অল্পতে বাঁচা মানুষ। এরপরও এত গুণী গুণী নির্মাতারা আমাকে তাদের গল্পে একজন নির্ভরযোগ্য শিল্পী হিসেবে ভেবেছেন, এখনো ভাবেন এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। মানুষ শীর্ষে বেশি দিন থাকে না। থাকতে পারেও না। মানুষের একটি ভালো কাজই অন্য মানুষকে ছুঁয়ে যায়। তাই জীবনে একসময় খুব ব্যস্ত সময় পার করেছি। কিন্তু প্রতিটি মানুষকে থামতে হয়। এটাই নিয়ম। আমি এ নিয়মকে কোনো আঘাত বা পরাজয় হিসেবে ভাবি না। আমার কথা হলো আমাকে যদি কেউ কোনো গল্পে প্রয়োজন মনে করে, তাহলে তিনি আমাকে ডেকে নেবেন। এর জন্য হা-হুতাশেরও প্রয়োজন নেই। আর এখন তো অনেকরকম কাজ হচ্ছে চারদিকে। এত কাজের ভিড়ে এখনই জরুরি বেছে বেছে কাজ করা।
একটি বড় বাজেটের সিনেমায় কাজ করলেন। শাকিব খানের ছবি ও দুই বাংলার প্রযোজনা। এরপর অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন আপনি নিয়মিত হবেন ?
না, নিয়মিত অনিয়মিত হওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই এখানে। কাজটা ভালো লেগেছে। গল্পের চরিত্রে আমার গুরুত্ব আছে তাই করেছি। আমার প্রতিটি কাজেই এসবই প্রাধান্য থাকে।
নিজের তারকা জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ-স্বাচ্ছন্দ কোনটাকে ভাবেন?
আমি সবসময় খুব সংসারি মেয়ে। অর্থাত্ অনেকেই ক্যারিয়ার নিয়ে অনেকরকম অঙ্ক কষে। এটা করলে ওটা যদি না হয়। অমুক সময় বিয়ে করলে ক্যারিয়ার যদি পড়ে যায় ইত্যাদি। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করবে কি-না জানি না। আমার ভেতরে এসব তাড়না কখনোই কাজ করেনি। বরং আমার একটা বাচ্চা-কাচ্চাসহ পরিবার থাকতে হবে। নিজের সংসারটা ঠিক সময়ে গোছাতে হবে। অমুক বয়সের ভেতরে আমার সন্তান নিতে হবে যাতে ছেলেটার বিয়েটাও ধুমধাম করে দিয়ে নাতির ঘরটাও দেখে যেতে পারি। জীবনটাতো আসলে খুবই ছোট। অথচ দেখুন, আমরা কী এক মরিচিকার ভেতরে ছুটতে গিয়ে জীবনকে ঠকাতে থাকি। আমি কারো দোষ দিই না। হয়তো ওদের জীবনের অঙ্ক সুখ-স্বাচ্ছন্দ ওদের মতো। আমারটা আমার মতো।
সেক্ষেত্রে জীবনে পুরনো প্রেম, পুরনো ভুল নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই?
একদম নেই। আক্ষেপ করে করবো কী। ওটাও আমি। এটাও আমি। আমি তো দাবা খেলতে বসিনি যে, মনে করে বলতে পারবো ঐ চালটা ভুল দিয়েছিলাম। জীবন এক সময়ের পালে ওড়া পাখি। আমি জানিও না সামনের দিনে আবার কেউ ডানা ভাঙতে আসবে কি-না। তাই ভুল নেই। আক্ষেপও নেই।
সংসারের সঙ্গীও একজন গুণী অভিনেতা। শাহেদ আলীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের রসায়ন বা সুখের অঙ্কগুলো কেমন?
রসায়ন, বীজগনিত তো জানি না ভাই। আর বিয়ে সংসারের এত বছর পর আমাদের সন্তানেরাই সুখের অঙ্ক। একটা দারুণ আনন্দের বিষয় হলো শাহেদও আমার মতো। খুব বেশি চাহিদার জীবনে বাঁচতে চাই না সে। আমরা তাই অল্পতেই সুখী। এটাকেই নিজেদের জীবনের দারুণ সমীকরণ করি।
ইত্তেফাক/বিএএফ
