সহকারী পরিচালক আনিছুরকে জিজ্ঞাসাবাদ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকার সোমবার তাঁকে বরখাস্ত করা হয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুদক কর্মকর্তারা আবজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, গত রবিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব শাহিনা খাতুন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘আবজাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উেসর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাকে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ এর ১২ বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো’। এ চিঠির পর গতকাল আবজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
দুদক জানায়, আবজাল হোসেনের স্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানমের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছে দুদক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর মধ্যে তলব করা হয়েছে। এ দম্পতির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হলে তাদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সামসুল আলম তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুলিশের বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর নোটিস পাঠান।
দুদকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবজাল দম্পতির নামে রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি আছে। বাড়ি নম্বর ৪৭, ৬২ ও ৬৬। ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি। বাড়ি নম্বর ১৬। উত্তরার ১১ নম্বর রোডে রয়েছে একটি প্লট। প্লট নম্বর ৪৯। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাঁদের অঢেল সম্পদ। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে তাদের বাড়ি। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আনিছুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
অন্যদিকে গতকাল একই অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরও ২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হলেও তারা হাজির হননি। নথি-পত্র সংগ্রহ করার জন্য এবং অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় আবেদন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর ও লাইন পরিচালক আবদুর রশিদ। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে এই চার কর্মকর্তা অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাত্ করে বিদেশে পাচার করেছেন এবং তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে বলে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান করছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদক কার্যালয়ে আসেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনিছুর রহমান।
