সুধীর বরণ মাঝি
শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়
চাঁদপুর
১। জমিদার মোবারক খান তার মৃত্যুর আগে স্ত্রী পুত্রদের ওপর দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। নিজ পুত্র আসাদের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব এবং সত্ পুত্র কামালের ওপর রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন।
ক) কোম্পানি শাসন কী ? খ) ‘ইকলিম’ বলতে কী বোঝায় ? গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি ঐতিহাসিক কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ঘ) উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার ফল ছিল সুদূরপ্রসারী বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
ক) উত্তর:কোম্পানি শাসন হলো ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা।
খ) উত্তর:১২০৬ সালে বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা জুড়ে মুসলিম শাসনের বিস্তার ঘটতে থাকে। এই সময়ের মধ্যে বাংলায় তিনটি অংশে দিল্লির মুসলিম সুলতানদের তিনটি প্রদেশ বা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভাগগুলোকে ফরাসি ভাষায় ‘ইকলিম’ বলে।
গ) উত্তর:উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি ঐতিহাসিক দ্বৈত শাসনব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ক্লাইভ দ্বৈত শাসন নামে এক অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। দ্বৈত শাসন হলো দু’জনের শাসন। এ ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল বাংলার নবাবের হাতে। অন্যদিকে বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার , জায়গা জমি, বিবাদ মীমাংসা সম্পর্কিত বিচার কোম্পানির ওপর ন্যস্ত হয়। উদ্দীপকের সত্পুত্র কামাল দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মতো পুরো শাসন ক্ষমতা না নিয়ে শুধুমাত্র রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা দ্বৈত শাসনব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ) উত্তর: বাংলার ইতিহাসে দ্বৈত শাসব্যবস্থার ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈত শাসনে নবাবের হাতে কোন ক্ষমতা ছিল না। অর্থের জন্য নবাবকে কোম্পানির দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। অন্যদিকে কোম্পানি হাতে প্রচুর টাকা ছিল কিন্তু কোম্পানির স্বার্থপরতার কারণে জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া বৈদেশিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলার জন্য নবাবকে কোম্পানির সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল রাখা হয়। এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্লাইভ প্রবর্তিত এই ব্যবস্থা এতোটাই চরম আকার ধারণ করে যে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬) বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ইতিহাসে যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এতে অনেক লোক প্রাণ হারান।
সুতরাং বলা যায়, দ্বৈত শাসন ছিল বাংলার মানুষের জন্য অভিশাপস্বরূপ।
