জামায়াত ইস্যুতে ড. কামালের সঙ্গে মতপার্থক্য বিএনপির

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৪

বিএনপির সাথে প্রায় দুই দশকের জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর থাকা নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ও গনফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেনের আপত্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বিএনপির নেতারা। তারা ড.কামালের বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, জামায়াত ত্যাগের আহবান সংক্রান্ত ড. কামালের মন্তব্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নয়,এটা তার ব্যক্তিগত। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল জামায়াত, তারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চায়। বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে রাজনীতি করে। তাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শ ভিন্ন। আমরা যদি জামায়াতকে ছেড়ে দিই, তা হলে আওয়ামী লীগ যে তাদের টেনে নেবে না সেই নিশ্চিয়তা কে দিবে? দিতে পারবে না। বিএনপি-জামায়াত বিচ্ছিন্নের ইস্যুটা সামনে আনার অর্থ হচ্ছে বিএনপি জোটের ভোটব্যাংক নষ্ট করা। বিএনপির সাথে ঐক্যফ্রন্টের যে জোট সেটা আলাদা প্লাটফরম আবার জামায়াতের সাথে যে ২০ দলীয় জোট সেটা আলাদা। সুতরাং এটা নিয়ে ড.কামাল হোসেনের প্রশ্ন তোলা অবান্তর।২০ দলীয় জোট আছে এবং অটুট থাকবে।

গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,জামায়াত নিয়ে ড.কামাল হোসেন সাহেবের বক্তব্য গণফোরামের। এটি ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয়।উনার নিজের বক্তব্য।আমরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা করিনি।জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে ফাটল ধরবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন,ঐক্যফ্রন্টে কোনো ফাটল ধরার সুযোগ নেই। অটুট থাকবে। কারণ আমরা অভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছি।

এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনীতি করে,বিএনপির রাজনীতি করে না।আমরা জামায়াতকে ছেড়ে দিলে আওয়ামীলীগ তাদের পরের দিনেই টেনে নেবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে গেলে রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায়, তেঁতুল হুজুরও মিষ্টি হুজুর হয়ে যায়। তেমনি জামায়াতও একসময় মিষ্টি হয়ে যাবে। ড. কামাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন অত্যন্ত বিজ্ঞ ব্যক্তি। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের খুব একটা সংযোগ নেই। বিএনপির মতো বড় দল যে তাদের কাছে দ্বরস্থ হয়েছে, এটি সঠিক হয়নি। আদর্শের সঙ্গে মিল না থাকলে জোট করে কোনো সুবিধা হয় না। আমরা শুধু শুধু অন্যদেরকে নেতা বানিয়ে দিয়েছি। বিএনপির মধ্যে অনেক যোগ্য নেতা ছিলো, তাদেরকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারতাম। ভোট কারচুপি যা হয়েছে, সেটিই হতো ফলাফলে। এই মুহূর্তে বিএনপির কারো উপদেশের প্রয়োজন নেই। তবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে রাজি আছি। তবে নিজেদের শক্তিতে বলিয়ান হতে হবে। বিএনপি এদেশের জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল। নিজেদের শক্তিতে আস্থা থাকা উচিত ছিলো। মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। তাদের সঙ্গে যোগদান করে তেঁতুল থেকে মিষ্টিতে রূপান্তরিত হবে। আমাদের বিএনপির অনেক সিনিয়র, যোগ্য, ক্যাপাবল নেতা আছেন। তাদেরকে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম।

জামায়াত নিয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, জামায়াত ইস্যুটা নিয়ে উনাকে বিরক্ত করা হয়েছে। সাংবাদিকরা বার বার এই ইস্যুতে প্রশ্ন করতে থাকেন। জামায়াতকে নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে ড. কামাল হোসেন পরামর্শ দিতে পারেন? যিনি সংবিধান রচনা করেছেন; সেই ব্যক্তিকে পদে পদে এভাবে নাজেহাল করা, এক সাংবাদিকের প্রশ্নের কারণে তার গাড়িতে হামলা পর্যন্ত হয়েছে। মন্টু বলেন,আমাদের কি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি মনে হয়? দেখতে হবে যুদ্ধাপরাধী কোনো ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে আছে কিনা। রাজাকাররা তো নৌকায় উঠেছে। আমাদের সঙ্গে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। আমরা সবাইকে চাই। দেশে একটা সত্যিকারের জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে চাই।

গত শনিবার (১২ জানুয়ারি) আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দাবি করে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড.কামাল বলেন, জামায়াতের সঙ্গে কখনও রাজনীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। আমি যখন ঐক্যে সম্মতি দিয়েছি তখন জামায়াতের কথা আমার জানা ছিল না। এটা ঐক্যফ্রন্ট গঠনে ভুল ছিল। জামায়াতের ২২ জন প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হবে, বিষয়টি আমি জানতাম না। দেওয়ার পর বিএনপির কাছে আমি ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। তারা বলেছে সবাই ধানের শীষের প্রার্থী। জামায়াতের কেউ নেই। বিএনপির জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে চাপ দেওয়া হবে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে গণফোরাম সভাপতি বলেন, আমিতো মনে করি জামায়াত ছেড়ে আসতে বিএনপিকে বলা যেগে পারে।