উন্নত ব্যক্তি চরিত্র ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে বই পড়ার তাত্পর্য গভীর। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বই বলতে পাঠ্যবইকেই বোঝে। পাঠ্যবইয়ের বাইরে যে বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রয়েছে সেদিকে মনোনিবেশের ঘাটতি লক্ষণীয়। জীবনের চরম লক্ষ্য অর্জন কিংবা নিজেকে বিকশিত করতে পাঠ্যসূচির বহির্ভূত শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই। বিকল্প শিক্ষার জন্য প্রথমত প্রয়োজন হচ্ছে প্রতিটি এলাকায় পাঠাগার থাকা।
আমাদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় পাঠাগারের সংখ্যা নগণ্য। আবার বাস্তব নানা কারণে মানুষ পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদ অনুভব করে না। মানুষ মানুষের সঙ্গে শত্রুতা কিংবা প্রবঞ্চনা করতে পারে, কিন্তু বই কখনো তা করে না। যে জাতির জ্ঞানেরভান্ডার শূন্য, সে জাতির ধনের ভান্ডারও শূন্য।
সর্বোপরি বলা যায়, সিলেবাসে সীমাবদ্ধ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন শিক্ষার্থী ভালো ছাত্র উপাধি লাভ করতে পারে, কিন্তু আলোকিত বসুন্ধরার খবরাখবর তাদের কাছে অজানাই থেকে যায়। সুতরাং জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার অভ্যাস বাঞ্ছনীয়। শুধু পাঠ্যবই একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষতা অর্জনে তেমন সহযোগিতা করতে পারে না, যতটা সহযোগিতা করে সিলেবাস-বহির্ভূত শিক্ষার ভান্ডার।
মো. আকিব হোসাইন
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ
