আসতে শুরু করেছে জেলেরা
পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সুন্দরবনের দুবলারচরে শুরু হচ্ছে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের মৌসুম। এ মৌসুমকে কেন্দ্র করে দুবলারচরে আসতে শুরু করেছে জেলেরা। জেলে পল্লির জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুঁটকি তৈরি ও সংরক্ষণের জন্য অস্থায়ী ডিপো ও জেলেঘর এবং মাচা তৈরি করে থাকেন। তারা গভীর সাগর, মোহনা ও বনের নদীতে বেহুন্দীসহ বিভিন্ন প্রকার জাল দিয়ে মাছ ধরে তা বাছাই করে শুঁটকি করেন। পরে সেই শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত দুবলারচরে সাগরে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের মৌসুম। এ বছর ২২ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বন বিভাগ জেলেদের বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে ১৫ দিন দেরিতে। প্রতি বছর বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশালসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ৭ হাজার জেলে ও মত্স্য আহরণকারী সুন্দরবনের মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, মাঝেরকিল্লা, শেলারচর ও নারকেলবাড়িয়ার চরে এসে অবস্থান নেয়।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে শুঁটকিকরণের মৌসুম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকার কারণে দস্যুমুক্ত পরিবেশে জেলেরা এবার নিরাপদে সাগরে মাছ ধরতে পারবে। কিন্তু জেলেরা সেখানে মুখোমুখি হবেন খাবার পানির তীব্র সংকটের। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের দুর্যোগে দুবলা অঞ্চলের পাঁচটি সাইক্লোন শেল্টার জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এ বছর জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ে আশ্রয়হীন অবস্থায় পড়বে বলে তিনি জানান।
সুন্দরবন পূর্ব ডিএফও মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, দুবলারচরের জেলেদের আজ বুধবার থেকে পাশ (অনুমতিপত্র) দেওয়া হবে। এ বছর পাঁচটি জেলে পল্লিতে ১৭ জন বহরদারকে ৫০টি ডিপো ঘর ও ৯৫০টি জেলেঘর স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব প্রদান সাপেক্ষে নির্দিষ্ট বনভূমির শুকনো জ্বালানি কাঠ ছাড়া সুন্দরবনের কোনো বনজ সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
