নদী ড্রেজিংয়ের স্থায়ী পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৯

নদীর নাব্য ঠিক রাখতে ড্রেজিংয়ের স্থায়ী পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দ্রুত চর জেগে ওঠার কারণে যে সব নদীপথ পরিবর্তন হয় বা ভাঙে, সেগুলো চিহ্নিত করে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভাপত্বি করেন। সভাশেষে এনইসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ড্রেজিংয়ের বিষয়ে যেসব প্রকল্প আছে সেগুলো দ্রুত একনেকে উপস্থাপনের জন্য অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড্রেজিংয়ের বিষয়ে একটা স্থায়ী পরিবর্তন এবং নিয়মিত ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এখন ক্যাপিটাল ড্রেজিং থেকে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং এ যেতে হবে। নদীর প্রবাহ বা পানি ব্যবস্থাপনার ওপর প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। নদীর পানি যখন কমে যায় তখন চর পড়ে বা অন্যান্য কারণে পানি বেড়ে গেলে ভাঙন শুরু হয়। এসব বড় নদীতে সারা বছরব্যাপী ড্রেজিং কার্যক্রম চালাতে হবে। এজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার জন্য জোন তৈরি করতে হবে যাতে পানির স্তর, অন্যান্য ব্যবস্থাপনা, পানির পরিমাণ বজায় থাকে।

একনেক সভায় দুটি নতুন প্রকল্প ও দুটি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ এবং সংশোধিত প্রকল্পের বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

সভায় নতুন প্রকল্পের মধ্যে ৫৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলাধীন সিংড়াবাড়ী, পাটগ্রাম ও বাঐখোলা এলাকা সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় ১ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল জেলা মহাসড়কে একস্তর নিচু দিয়ে উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনসহ ৪-লেনে উন্নীতকরণ (ডাঙ্গাবাজার-ইসলামপুর লিংকসহ) প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৫৫১ কোটি টাকা।

এছাড়া ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আমিনবাজার-মাওয়া-মংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ঋণ ব্যবহার করা হবে।

সময়মতো সব উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলেছেন তিনি। সবাই যাতে মাস্ক ব্যবহার করেন সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।