মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ধারা সমুন্নত রাখার অঙ্গিকার এবং শহিদদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনাসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালিত হয়েছে শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহিদ চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে স্মরণ করল জাতি। দিবসটির প্রতিটি অনুষ্ঠানেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসরদের সর্বক্ষেত্রে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ও জাতীয় চার নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। গতকাল সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে এবং বনানী কবরস্থানে জাতীয় তিন নেতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অপর জাতীয় নেতা এ এইচ এম কামারুজ্জামানের কবর রাজশাহীতে হওয়ায় সেখানেও দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫ সালের এ দিনে তত্কালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের হত্যা করে। আদর্শের প্রতি অবিচল এই নেতাদের হার না মানার শক্তি আজও তাদের পরিজনদের শোকাকুল না করে, করে তোলে গর্বিত। চার জাতীয় নেতা ত্যাগের মহিমার অনন্য নজির সৃষ্টি করে গেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের উদ্যোগে সারা দেশে শোকাবহ এই দিবসটি পালিত হয়েছে।
গতকাল সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মতিন খসরু, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহিদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বনানী কবরস্থানে পবিত্র ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মত্স্যজীবী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুবলীগ উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ উত্তর ও দক্ষিণ, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন জাতীয় চার নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এদিকে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। অনুষ্ঠানে জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শহিদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে এ এইচ এম এহছানুজ্জামান, শহিদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে রেজাউল করিম, শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যরা বনানীতে তিন নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন
