সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণের জামানত দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪২

কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএস) শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের জামানতসুবিধা দিতে ঋণ জামানত স্কিম গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঐ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলোর সিএমএস শিল্প খাতের বিতরণকৃত মোট ঋণের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণের জামানত দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর এক জন গ্রাহককে মোট ঋণের ৮০ শতাংশ জামানতসুবিধা দেওয়া হবে। গতকাল এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘ম্যানুয়াল অব ক্রেডিট স্কিম’ শীর্ষক নীতিমালায় ব্যাংক ও গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ ও জামানতের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণগ্রহীতারা এ জামানতসুবিধা পাবেন। অর্থাত্ নিজস্ব জামানত না থাকলেও গ্রাহকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই জামানত স্কিমের আওতায় ঋণ নিতে পারবেন। গ্রাহকদের ঋণের জামানত দেবে এই তহবিল। এই তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য সিজিএস ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাত্সরিকভিত্তিক চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএমএস খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের বিপরীতে জামানতসুবিধা পাবে। কোনো ব্যাংকে ১০০ কোটি টাকা এই খাতে ঋণ দিলে তার সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা ঋণ জামানতবিহীন দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তহবিলের আওতায় সুরক্ষা পাবে। তবে গ্রাহকরা  তাদের নেওয়া সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ঋণের জামানতসুবিধা পাবেন। কোন কারণে গ্রাহক ঋণের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তহবিল থেকে বিতরণকারী ব্যাংকের জামানতকৃত অর্থ ফেরত দেবে।

জামানতসুবিধা পেতে হলে গ্রাহককে ১ শতাংশ হারে ফি প্রদান করতে হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের দায়িত্ব ব্যাংকের। আর যেনতেন গ্রাহককে ঋণ দিয়ে তা আদায় করতে ব্যর্থ হলেই স্কিমের আওতায় অর্থ দাবি করতে পারবে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্রাহক ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে তা খেলাপি হতে হবে। এই ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি হওয়ার সময়সীমা আড়াই বছর পর্যন্ত। এরপর গ্রাহক চাইলে তাকে তিন বার পর্যন্ত পুনঃ তপশিলসুবিধা দিতে হবে। এরপরও খেলাপি হলে আদালতে মামলা করতে হবে। সেখানেও অর্থ ফেরত না পাওয়া গেলে যাবতীয় কাগজপত্র দাখিল করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে স্কিমের আওতায় জামানতের অর্থ ফেরত চাইতে হবে। এমনভাবে নীতিমালা করা হয়েছে ব্যাংকগুলো নিজের স্বার্থে ভালো গ্রাহকের জন্য এই স্কিমের আওতায় ঋণসুবিধা দেবেন।