নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আগামী সপ্তাহে চার্জশিট

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:৫৬

ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় অভিযোগপত্র আগামী সপ্তাহেই দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে। অভিযোগপত্র দাখিলের তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের সব কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নারায়ণগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন। তিনি জানান, ‘আমরা চাই আগামী সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা হলে অনুমোদন নিতে হয়। এই অনুমোদন নিতেই যত দেরি হয়। তারপরই আমরা চার্জশিট দাখিল করব। আমরা এমনভাবে চার্জশিট তৈরি করেছি, যাতে ভবিষ্যতে গাফিলতির কারণে এত মানুষের প্রাণহানি না হয়। এটা যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’

ইতিমধ্যে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় সিআইডি মসজিদ কমিটির সভাপতি, তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যুত্ বিভাগের ২ জনসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত সবাই বর্তমানে জামিনে আছেন।

সর্বশেষ গত শুক্রবার পশ্চিম তল্লা রেললাইন এলাকা থেকে পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মিয়াকে (৬২) গ্রেফতার করে। তিনিও গত সোমবার জামিনে বেরিয়ে আসেন।

ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আব্দুল গফুর মিয়া ঘটনার আগে থেকেই সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে থেকে গ্যাসলাইনের পাইপ লিকেজ হতে গ্যাস মসজিদে জমা হওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও মুসল্লিদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবেননি। মসজিদে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে মসজিদের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কোনো সরকারি অনুমোদন গ্রহণ না করে বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং মুসল্লিদের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মসজিদের অভ্যন্তরে মধ্যবর্তী উন্মুক্ত স্থানে বিদ্যুতের সার্কিট ব্রেকার, মিটার, কাটআউট ও ম্যানুয়েল চেঞ্জওভার স্থাপন করেছেন। তিতাস, বিদ্যুত্ ও মসজিদ কমিটির অবহেলা, যথাযথ তদারকি, অসাবধানতা ও মসজিদের যাবতীয় কাজকর্মে যথাযথ নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় তিতাস, ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটির দায়িত্বে অবহেলা, অসাবধানতা ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছি। এজন্য ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মসজিদ কমিটির আরো কয়েক জনের গাফিলতি আমরা পেয়েছি। যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিশুসহ ৩৯ জন দগ্ধ হয়। এ পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।