পার্বতীপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে ৩ শিফটে মাসিক উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে গত বছরে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬৬ টন পাথর উত্তোলন করেছে খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।
দেশের একমাত্র এই কঠিন শিলা খনিতে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি পেলেও আশানুরূপ পাথর বিক্রি বাড়েনি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাথর বিক্রি হয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ২২ টন। এটি খনি সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে সোমবার পর্যন্ত খনির ১১টি ইয়ার্ডে বিভিন্ন সাইজের পাথর মজুদের পরিমাণ জানা যায় ৪ লাখ ২০ হাজার টন। গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পাথর বিক্রি হয়েছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার এবং চলতি অর্থ বছরে জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত পাথর বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার।
খনির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জিটিসি প্রতিদিন পাথর উত্পাদন করছে প্রায় ৫ হাজার টন। বিক্রিও বাড়ছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ খনি কর্তৃপক্ষকে পাথর পরিবহনে লোড নির্ধারণ করে দেওয়ায় অতিরিক্ত পরিবহন করার অনুমিত পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। ফলে তাদের পরিবহন খরচ বাড়ছে। অপরদিকে, আমদানিকৃত পাথর ওভার লোড (অতিরিক্ত) নিয়ে পরিবহন করতে পারছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের পরিবহন খরচ কমে যাচ্ছে। এ কারণে তারা খনির পাথর কেনার চেয়ে আমদানি করা পাথরের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
খনি সূত্রে জানা গেছে, খনির উত্পাদন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উত্পাদন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) খনির দায়িত্বভার গ্রহণ করে খনির নতুন স্টোপ নির্মাণ (শিলা উত্পাদন ইউনিট), খনির উন্নয়ন এবং উত্পাদনের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিদিন ৩ শিফট পরিচালনা করে খনির উত্পাদন বৃদ্ধি করছে। জিটিসি মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত বছরের ২৩ মার্চ খনির ৯নং স্টোপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জ্বালানি ও বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
জিটিসি’র নির্বাহী পরিচালক জাবেদ সিদ্দিকী বলেন, খনিতে অর্ধশতাধিক বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞ, ৭ শতাধিক খনি শ্রমিক, অর্ধশত দেশি প্রকৌশলীসহ দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। মাসিক পাথর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ফলে জিটিসি’র কর্মরত খনি শ্রমিকদের প্রতিমাসে বেতন ও ওভার টাইমের সঙ্গে উত্পাদন বোনাসও প্রদান করা হচ্ছে।
