মত্স্য খামারে বিনিয়োগ করে বিপাকে এক প্রবাসী

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪৬

ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা

মত্স্য খামারে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন ওসমানীনগরের সিকন্দরপুর গ্রামের প্রবাসী জমশেদ আলী লেফাছ। যাদের কর্মসংস্থানের জন্য খামার গড়েছিলেন, উলটো তারাই এখন খামার ও ভূ-সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টায় লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ফলে খামারে বিনিয়োগের প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি নাজেহাল হচ্ছেন সাজানো গুমের মামলাসহ প্রতিপক্ষের ক্রমাগত হুমকিতে। এসব ঘটনায় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

জানা গেছে, তিনি মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে ফিশারি দেখাশুনার দায়িত্ব দেন আব্দুল্লাহপুর গ্রামের চাচাতো ভাই রানু মিয়া ও জানু মিয়াকে। পর্যায়ক্রমে রানু ও জানুর তত্ত্বাবধানে ফিশারিতে জনবল নিয়োগসহ উন্নতির স্বার্থে ব্যয় করেন আরো ২০ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে মাছের পোনাসহ আরো প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন জমশেদ আলী। পরবর্তী সময়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রানু ও জানু একটি প্রভাবশালী মহলের মদতে গত তিন বছর ফিশারি ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মুরব্বিদের অবগত করা হলে রানু ও জানু হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেননি। এই সুযোগে ২০১২ সালের ১২ আগস্ট রানু ও জানুর আরেক ভাই হামদু মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় নিখোঁজ হলে গুম করা হয়েছে মর্মে রানু মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলায় জমসেদ আলী লেফাছ ও তার প্রবাসী  দুই ভাই পিয়ার আলী মধু, আছকির আলী দুদুসহ চার জনকে অভিযুক্ত করা হয়। যা বর্তমানে পিবিআইর কাছে তদন্তাধীন আছে। এ ব্যাপারে জমশেদ আলী লেফাছ বলেন, তারা আমার পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে জোরপূর্বক বাড়ির গাছ, ফিশারির মাছ ও জমির ধান কেটে নিয়ে এখন উলটো সাজানো গুমের মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।

নিখোঁজ হামদু মিয়ার স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামীকে কেউ নিখোঁজ করেনি।’ রানু মিয়া ও জানু মিয়া বলেন, লেফাছ মিয়া আমাদের জায়গা লিজ নিয়ে ফিশারি করে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। আমার ভাইকে গুম করে লিজের টাকা না দিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

উমরপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, এটা তাদের পারিবারিক বিরোধ। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার সালিশ বৈঠকে বসেছি কিন্তু সমাধান হয়নি। গুমের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই সিলেটের এসআই তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, ঐ প্রবাসী তাদের চাচাতো ভাইদের ফিশারি করে দিয়েছিলেন। টাকা ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। লেফাছ মিয়ার আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি থানায় তদন্তাধীন আছে।