অক্টোবরে নির্যাতনের শিকার ৪৩৬ নারী ও কন্যাশিশু

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ২২:২১

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন মতে, গত অক্টোবর মাসে শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় ৪৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার মধ্যে কন্যাশিশু ১০১ জন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৩টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ৪৪ জন গণধর্ষণসহ মোট ২১৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তন্মধ্যে ১০১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ২৫ শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া ১৬ শিশুসহ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ২৩ জনকে। এ সময় শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে পাঁচ জন। তার মধ্যে শিশু তিন জন। ১২ শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। গত এক মাসে অ্যাসিডে দগ্ধ হয়েছে চার শিশু এবং অ্যাসিডে দগ্ধের কারণে মৃত্যু হয় এক জনের। প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময় অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে দুই জন। তার মধ্যে অগ্নিদগ্ধের কারণে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছে ১০ নারী ও কন্যাশিশু। এ সময় মোট ১২ জনকে অপহরণ করা হয়। তার মধ্যে শিশু আট জন। পাচারের শিকার হয়েছে চার জন। তার মধ্যে শিশু পাচার করা হয়েছে এক জন এবং তিন জনকে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে। বিভিন্ন কারণে ১১ শিশুসহ ৪৪ নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ছয় জনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গত এক মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতন করা হয়েছে আট নারী ও কিশোরিকে। উক্ত সময় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫ নারী ও ছয় শিশুসহ মোট ২১ জন। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে পাঁচ শিশুসহ আত্মহত্যা করেছে ছয় নারী। এ সময় আট জন শিশুসহ ৪৬ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে ছয়টি। সাইবার ক্রাইম অপরাধের শিকার চার শিশুসহ মোট আট জন। মহিলা পরিষদ মনে করে, প্রকৃত নারী নির্যাতনের ঘটনা আরো অনেক বেশি। তবে সব খবর প্রত্রিকায় আসে না। তাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো বেশি গুরুত্বারোপ করার তাগিদ দেয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।