সিলেট অফিস ও ওসমানীনগর সংবাদদাতা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আবার সংলাপের ডাক দিয়েছেন। তবে সংলাপের এজেন্ডা কী হবে সেটি জানানো হয়নি। বিগত নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের বিষয় এজেন্ডায় থাকলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে অংশ নিতে পারে। গতকাল সোমবার সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত নিয়ে ড. কামালের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এটি ড. কামালের বক্তব্য, ঐক্যফ্রন্টের নয়। জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে ফাটল ধরার সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, উপজেলা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় না। কাজেই এ নিয়ে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে অযোগ্যতা দেখিয়েছে, তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা গতকাল দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে পৌঁছে প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সফরকারী দলে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, মহাসচিব হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সমপাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।
নিহত সায়েমের বাড়িতে ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ
সোমবার অপরাহ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সিলেটের বালাগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েমের বাড়িতে যান। তারা সায়েমের কবর জিয়ারত করেন। নেতারা সোহেলের পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং তাদেরকে শান্ত্বনা দেন। বিকালে সায়েম আহমদের বাড়িতে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন রিপন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, বিএনপির মহাসচিব ঐক্যফ্রন্ট নেতা মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নিহত সায়েমের চাচাতো ভাই বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুত্ফুর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: শাখাওয়াত হোসেন জীবন, গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ, সিসিক কাউন্সিলর কয়েস লোদী, বিএনপি নেতা কলিম উদ্দিন মিলন, মিজানুর রহমান চৌধুরী কাইয়ুম চৌধুরী, কাইয়ুম চৌধুরী, বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি নেতা আবদাল মিয়া, ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি নেতা ময়নুল হক চৌধুরী, ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আছকির আলী।
সভায় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার দেশে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। এম ইলিয়াস আলীকে গুম করে রেখেছে। সোহেল সকল মানুষের অধিকার রক্ষা করতে চেয়েছিল। তাই সে অমর হয়ে থাকবে।
