কারাবন্দি ভুয়া নবাব আলী হাসান আসকারির প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের সন্ধান করছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত তার একাধিক নাম ব্যবহার করে প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন। সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৫০০ ব্যক্তির প্রতারিত হওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে তার সঠিক হিসাব এখনো মেলেনি। সেই টাকা কোথায় রাখা হয়েছে সেটিও এখন পর্যন্ত অজানা।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে ভুয়া নবাব আসকারি দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে কিছু টাকা গচ্ছিত রেখেছেন। এর বাইরে আরো দুটি জায়গায় টাকা আছে এমন তথ্যও মিলেছে। ব্যাংকের হিসাবের তথ্যের জন্য আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে (বিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে সিটিটিসির ইকোনমিক ক্রাইম ও হিউম্যান ট্রাফিকিং শাখা।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলেন, আসকারির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। কারণ এই প্রতারকের নতুন নতুন নাম বের হচ্ছে। আহসানউল্লাহ ট্রাস্ট থেকে বলা হয়েছে, আলী হাসানের সহযোগী হিসেবে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে তিন জনই তার ভাই। এটা প্রমাণের জন্য আমরা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলছি। এছাড়া তার স্ত্রীর সঙ্গেও স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে কথা হয়েছে। তার স্ত্রী মেরিনা আক্তার জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে মিরপুর এলাকায় পহেলা বৈশাখের একটা অনুষ্ঠানে আলী হাসানের সঙ্গে তার পরিচয়। তখন আলী হাসান নিজেকে নবাব বংশের উত্তরসূরি হিসাবে পরিচয় দিয়েছিল। আলী হাসানকে তার ভালো লাগায় পরবর্তী সময়ে তাকে বিয়ে করেন তিনি। একই বছর মেরিনা তার আগের স্বামী আল মামুন হোসেনকে ডিভোর্স দেন। চুয়াডাঙ্গা পুলিশকে মেরিনা আরো জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে তারা ২৫ কোটি টাকা কাবিনে যে বিয়ের কাগজ দেখান সেটি তারা জালিয়াতির মাধ্যমে করেছেন। আর মেরিনার প্রথম ঘরের সন্তানকে আলী হাসানের সন্তান হিসাবে দেখানোর জন্য অ্যাভিডেভিট করেছেন তারা। স্বাস্থ্য সেক্টরে চাকরি দেওয়ার নামে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গাতেও একটা প্রতারণার মামলা হয়েছে। ঐ মামলায় আলী হাসানের শ্যালক গ্রেফতার হয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় আসকারির আরেক স্ত্রী আছেন। কারণ তার মেসেজ কনভার্সেশনে দেখা যায়, এক মেয়েকে আসকারি ‘আম্মু আম্মু’ বলে ডেকেছেন। তার পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তিনি মালয়েশিয়ায় দুই বার ও ভারতে ছয় বার যান। এছাড়া তার একবার জেদ্দায় যাওয়ারও তথ্য মিলেছে।
সিটিটিসির ইকোনমিক ক্রাইম ও হিউম্যান ট্রাফিকিং শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম জানান, অধিকতর তদন্তের জন্য ভুয়া নবাবকে নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিমান্ডে এনে ভুয়া নবাবের প্রকৃত পরিচয় বের করার চেষ্টা করা হবে। যদি তিনি তার সত্যিকার পরিচয় না জানান, তাহলে ডিএনএ টেস্ট করে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
