ভোগান্তিমুক্ত বিচার পাওয়া মানুষের অধিকার :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচারাধীন মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণে বিচারক এবং আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ভোগান্তিমুক্ত বিচার প্রাপ্তি মানুষের অধিকার। এটা করতে পারলে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের যে আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে তা আরো বৃদ্ধি পাবে। মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে কোনো প্রকার সহযোগিতায় বর্তমান সরকার সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। আদালতের রায় বাংলায় লেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনে এক্ষেত্রে ট্রান্সলেটর নিয়োগদানের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা জেলার নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর জনসন রোডস্থ আদালত পাড়ায় ঢাকা জেলার নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুন ২০২০ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আদালতে ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের উপায় বের করার জন্য আমি সব বিচারক এবং আইনজীবীদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এত মামলা এভাবে যেন জমে না থাকে। কীভাবে এসব মামলার বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায় অবশ্যই এ ব্যাপারে একটু আন্তরিক হবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন। এজন্য যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতেও সরকার প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু এতগুলো মামলা এভাবে পড়ে থাকুক সেটা আমরা চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রায় যদি কেউ বাংলায় লিখতে না পারেন, ইংরেজিতে লেখেন কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেই রায়টা বাংলায় ট্রান্সলেশন করে যেন প্রচার হয় সেই ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকেও আমি অনুরোধ করব, আইনমন্ত্রীও এখানে আছেন, আপনারা কিছু ব্যবস্থা নেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়, বাংলাদেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, স্বস্তিতে থাকে, শান্তিতে থাকে, নিরাপদে থাকে এবং উন্নত জীবন পায়। আর এভাবেই যেন আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারি, সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এবং আমার ছোট বোন শেখ রেহানাসহ ১৫ আগস্ট যারা আপনজন হারিয়েছিলাম, আমাদের কিন্তু বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না, বিচার চাইতে পারিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সময়ে চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার, নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের মামলা এবং হলি আর্টিজেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসহ সব চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার সম্পন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করে এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারকগণকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও এজলাস সংকট নিরসনের পাশাপাশি মামলা ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে অধস্তন আদালতে ১ হাজার ১২৬ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের উদ্বোধন করা হলো। আমার প্রত্যাশা, এ ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে জনগণের বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। তারা যেন ন্যায়বিচার পায়। আমাদের মতো যেন কাউকে এই বিচারহীনতায় ভুগতে না হয়।  

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। আইনসচিব গোলাম সারোয়ার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আইনসচিব গোলাম সারোয়ার মূল অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা জেলার নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের একটি রেপ্লিকাও উপহার দেন।