সৌদিমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের আবু থুনাইন গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির কাফালা বা কফিল পদ্ধতি সংস্কারের বিধিমালা ঘোষণা করেছেন। ২০২১ সালের ২১ মার্চ থেকে নতুন বিধিমালা কার্যকর করা হবে। এতে বিদ্যমান বিধিনিষেধ সংস্কার করে চাকরি বদলের সুযোগ দেওয়া হবে। কফিল বা নিয়োগদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই দেশটি ত্যাগ করতে পারবেন কর্মীরা। প্রবাসী কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে সৌদি আরব।
সৌদি গেজেট ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়, দেশটির মানবসম্পদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবুথুনাইন জানান, সৌদি আরবে শ্রম বাজারকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সৌদি আরব লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক অত্যন্ত কম বেতনে মানবেতর অবস্থায় তাদের নিয়োগদাতাদের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় দেশটির মানবসম্পদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান বিধিনিষেধ সংস্কার করে চাকরি বদলের সুযোগ দেওয়া হবে। এখন থেকে প্রথম নিয়োগদাতার স্পন্সর দ্বিতীয় নিয়োগদাতার কাছে স্থানান্তর করে কাজের জায়গা বদলানো যাবে। তাছাড়া, নিয়োগদাতাকে না জানিয়ে বা তার অনুমতি ব্যতীত; সৌদিতে আসা বা দেশটি ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারেও কোনো বাধা থাকবে না। ‘শ্রমিক সম্পর্ক পদক্ষেপ’ শীর্ষক নতুন সংস্কারের ফলে উপকৃত হবেন সৌদিতে কর্মরত ১ কোটি প্রবাসী শ্রমিক। সংখ্যায় তারা তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন।
মানবাধিকার কর্মী রত্না বেগম আলজাজিরাকে বলেন, সৌদিতে কাফালা ব্যবস্থায় দেশটির কর্তৃপক্ষ কিছুটা শিথিলতা আনছে। অধিকাংশ সময়েই কাফালার অপব্যবহার করে শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্রম-শোষণের ঘটনা লক্ষ করা যায়।
