চৌমুহনীতে ৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে জেএমবি সদস্য আটক

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৯

চৌমুহনী শহরের কিসমত করিমপুর এলাকায় ৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে সাইফুল ইসলাম আরিফ নামে এক জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে সাইফুল তার মা-বোনদের দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তাকে আটকের সময় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, সেনবাগ উপজেলার ১নং ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ঈমাম হোসেনের পুত্র সাইফুল ইসলাম আরিফ (৩২) স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ঈমাম হিসাবে কাজ করতেন। একটি ভাড়া বাসায় তার মা মারজাহান বেগম (৬০), বোন শাহিদা আক্তার (২৬) ও শামীমা আক্তার (২৩) থাকতেন। সাইফুল কয়েক মাস পর পর বাসায় আসতেন। গত রবিবার বিকাল ৪টার দিকে আরিফ বাসায় এসে বিশাল রামদা দিয়ে তার মাকে কোপাতে থাকে। বোনেরা মাকে রক্ষা করতে আসলে তাদেরও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে একটি কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এলাকাবাসী খবর পেয়ে সাইফুলকে বাইরে থেকে আটকে রাখে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমীন ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাইফুলকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানায়। এ সময় পুলিশ জানালার গ্রিল কেটে তার আহত মা, বোনদের বের করে হাসপাতালে পাঠায়।  কিন্তু সাইফুল দা উচিয়ে বলতে থাকে, সে জেএমবির সদস্য এবং আত্মসমর্পণ করবে না। বিকাল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করার এক পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার রুমের মধ্যে পানি ছুড়তে থাকে। পুলিশও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায় সাইফুল। এতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নূরে আলম, এসআই মোস্তাক, এএসআই জহির ও দুইজন সিপাহী আহত হন।

পুলিশ তাকে আটক করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন মোল্লা জানান, আরিফ সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় দুইটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।