সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দিনটি ছিল একটু ভিন্ন ধরনের। নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, দুপুরের ভোজ, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের আনন্দ দেওয়া হয়।
গতকাল রবিবার মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বেউথা বস্তির শিশুদের জন্য এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দিশারী নামের একটি সংগঠন। শিশুদের সাথে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল তাদের অভিভাবকরাও। জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ বাবুল মিয়া এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারও অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
দিশারী’র সভাপতি হাসান শিকদার জানান, সংগঠনটি তার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দিনব্যাপী শিশু উত্সবের আয়োজন করে। ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি তত্কালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের উদ্যোগে কয়েকজন স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থী এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর সদস্য ও ভলান্টিয়াররা পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নানামুখি কার্যক্রম হাতে নেয়। শিশুদের জন্য প্রি-প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা, বিনা বেতনে পাঠদান, খাতা-কলম বিতরণ, ঈদের পোশাক ও শীতকালে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ, ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন, শিশুদের হাতে মেহেদী লাগানোসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মন জয় করতে সক্ষম হয়।
সংগঠনের অর্থ সম্পাদক ও মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাম, মীম, জোপা ও বৃষ্টি জানায়, সংগঠনের সদস্যরা সকলেই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা নিজেদের লেখা-পড়ার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত ওইসব শিশুদের নিয়মিত পাঠদান করে থাকে। ৩০জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে প্রতিমাসে একটি করে খাতা ও কলম দেওয়া হয়। এছাড়া শিশুদের জন্য নানাধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সকল সদস্য প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে চাঁদা দেয়। তাদের সঞ্চিত অর্থ শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
সুবিধাবঞ্চিত শিশু আল্লাদী বলে, সাররা অনেক ভালো। আমাদের আদর করে। নতুন জামা দেয়। চকলেট দেয়। আদর করে পড়ায়। শিক্ষার্থীর অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি একজন দিনমজুর। আমার স্ত্রী মাটির ট্রাকে কাজ করে। আমার ছেলেটা বাসায় একাই থাকে। আমরা তার কোন খোঁজ-খবর রাখতে পারি না। দিশারীর ছেলে-মেয়েরা তার ছেলেকে বাবা-মায়ের আদর দিয়ে লেখাপড়া শেখাচ্ছে। এতে আমাদের বস্তির সব শিশুই শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
দিশারী’র প্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, একটি কাজ একজন ব্যক্তির পক্ষে সম্পন্ন করা কঠিন। দশজনে মিলে তা সম্পন্ন করা সহজ। তিনি একারণেই দুই বছর আগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)-এর দায়িত্বে থাকাকালে এই সংগঠন সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দিশারীর সদস্যদের কাজের অগ্রগতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দিশারীর সদস্যরা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষ যদি তাদের মতো ভাল কাজে এগিয়ে আসে তাহলে এদেশ অনেক এগিয়ে যাবে।
