শরীর সবুজ ও ঠোঁট লাল টিয়া রায়নার খুব পছন্দ। রায়না মামাবাড়িতে গিয়ে পোষা টিয়াপাখি দেখেছে। ওই টিয়াপাখি শিশুদের মতো কী সুন্দর করে কথা বলে। তারপর থেকে টিয়াপাখি পোষার খুব ইচ্ছা জাগে তার। বাবাকে মাঝে মাঝে টিয়াপাখি কিনে আনতে বলে রায়না।
বাবা রায়নার ইচ্ছা পূরণ করলেন। তাও আবার রায়নার জন্মদিনে টিয়াপাখি উপহার দিলেন বাবা। ওইদিন রায়না টিয়াপাখি পেয়ে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার মনে করল। টিয়াপাখিটি খাঁচায় বন্দি। নিয়মিত খেতে দেয়। ধীরে ধীরে ইশারায় ডাকাডাকি করে। একমাস পর টিয়াপাখি কথা বলতে শুরু করল। কথা বলা শুরুর পর টিয়াপাখি বলল, ‘রায়না, আমি কি তোমার বিশ্বস্ত বন্ধু হতে পারিনি? আমাকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছ। আমার তো উড়ে বেড়াতে ইচ্ছা করে।’
রায়না খাঁচার ভেতর হাত দিয়ে টিয়ার লাল ঠোঁটটা ধরে আদর করতে করতে বলল, ‘তোমাকে ছেড়ে দিলে উড়ে কোথায় চলে যাবে, পরে তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তখন তো আমি বাসায় কান্নাকাটি করতে করতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে আমার।’
টিয়া রায়নার হাত থেকে ঠোঁটটা সরিয়ে নিয়ে বলল, ‘তোমার এত আদর-সোহাগ পেয়ে আমি কি আর কোথায় যেতে পারি? কোথাও যাব না। তুমি আমাকে মুক্ত করে দাও। দেখবে আমি তোমার পেছনেই সবসময় ঘুরঘুর করব।’
রায়না খুশি হয়ে বলল, ‘সত্যি বলছ তো, ফাঁকি দেবে না তো আমাকে?’
টিয়া রেগে বলল, ‘আমি কি আর মিথ্যুক মানুষের মতো যে নিজের স্বার্থের জন্য মিথ্যা কথা বলব। স্বার্থ উদ্ধার হলে আর চিনবই না। আমি তো আর মানুষ না, আমি তো টিয়াপাখি। আমাকে বিশ্বাস করো রায়না।’
রায়না বুঝতে পারল টিয়া তার কথায় মন খারাপ করেছে। রায়না তার হাত খাঁচা থেকে বের করে আনল। তারপর হাত জোড় করে বলল, ‘আমি যদি ভুল কিছু বলে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। আর শোনো, আগামীকাল মায়ের জন্মদিন। মায়ের জন্মদিন নিয়ে আমার একটা পরিকল্পনা আছে।’
‘কী পরিকল্পনা?’
“মায়ের সামনে তোমাকে মুক্ত করে দিয়ে ‘হ্যাপি বার্থডে’ বলব। তখন মা খুব খুশি হবেন। আর তুমি মুক্ত হয়ে কোথাও না গিয়ে মায়ের পাশ দিয়ে উড়বে আর মাকে ‘হ্যাপি বার্থডে মা, হ্যাপি বার্থডে মা, হ্যাপি বার্থডে মা’ বলবে। তোমার মুখ থেকে মা হ্যাপি বার্থডে শুনলে অনেক খুশি হবেন। আমিও খুব খুশি হব।”
টিয়াপাখি খুশিতে বলল, ‘তোমার তো অনেক বুদ্ধি। মাকে এভাবে খুশি করলে মা তো তোমাকে অনেক দোয়া করবেন। আর মায়ের দোয়াতে তুমি ভবিষ্যতে অনেক বড়ো মানুষ হবে।’
‘তুমিও আমার জন্য দোয়া করবে।’
‘অবশ্যই।’
‘তাহলে কথা কিন্তু ঠিক থাকল। এটাই পাকা কথা। মায়ের জন্মদিনে আমরা মজা করব।’
‘অবশ্যই।’
টিয়াকে খাঁচায় খাবার দিয়ে চলে গেল রায়না।
পরদিন সকালে টিয়াপাখির খাঁচাটা নিয়ে মায়ের কাছে হাজির হলো রায়না। মা টিয়াপাখির খাঁচা দেখে অবাক হলেন। তারপর বললেন, ‘তুমি টিয়াপাখির খাঁচা নিয়ে এলে কেন?’
রায়না কিছু না বলে খাঁচাটার মুখ খুলে দিল। তারপর টিয়াপাখি বের হয়ে মায়ের চারপাশে উড়তে উড়তে ‘হ্যাপি বার্থডে মা, হ্যাপি বার্থডে মা, হ্যাপি বার্থডে মা’ বলতে লাগল। মা তো টিয়ার মুখে হ্যাপি বার্থডে শুনে খুশিতে আনন্দে আত্মহারা। মা খুশিতে কিছু বলতে পারলেন না। মনে মনে ভাবলেন, জীবনে এই প্রথমবার হয়তো কোনো সন্তান টিয়াপাখির মুখে হ্যাপি বার্থডে শুনিয়ে মাকে জন্মদিনে উইশ করল।
মা টিয়াপাখিকে ধরে আদর করতে লাগলেন। রায়না হ্যাপি বার্থডে মা বলতে লাগল। মা টিয়াপাখিকে ছেড়ে দিয়ে রায়নাকে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করতে লাগলেন। টিয়াপাখি ওদের পাশে ঘুরতে ঘুরতে আবারও হ্যাপি বার্থডে মা বলতে বলতে আনন্দ প্রকাশ করতে লাগল।
