লুইস গ্লুকের দুটি কবিতা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩২

রূপান্তর :ফিরোজ আহমদ কামাল

 

ইথাকা

 

প্রিয়জনের বেঁচে থাকার 

প্রয়োজন হয় না। প্রিয়জন

বেঁচে থাকে স্মৃতিতে। বয়নকল

পাণিপ্রার্থীদের জন্য, বাঁধা থাকে

সাদা শবাচ্ছাদন—বস্ত্রের সুতোর

সঙ্গে একটি বীণার মতো।

 

সে ছিল দ্বৈতসত্তা।

দেহ ও কণ্ঠস্বর ছিল সে, একজন

জীবিত মানুষের সহজ আকর্ষণী

শক্তি, আর তারপর স্বপ্ন

কিংবা প্রতিমার উন্মীলন

বয়নকলে কর্মমগ্ন নারীতে মূর্ত,

সেখানে বসে আছে হলভর্তি

যথার্থ মনের মানুষদের সঙ্গে।

 

যখন তুমি করুণা কর

প্রবঞ্চিত সাগরকে যে চেষ্টা করে

তাকে নিয়ে যেতে চিরতরে

আর নেয় শুধু প্রথমটিকে,

প্রকৃত স্বামী যে, তুমি নিশ্চয়ই

করুণা করবে এসব মানুষকে:

ওরা জানে না কিসের দিকে

চেয়ে আছে ওরা; জানে না

কেউ যখন ভালোবাসে এভাবে

শবাচ্ছাদন-বস্ত্র হয়ে যায় বিয়ের পোশাক।

 

কপার বিচ

 

আকাশের প্রতি পৃথিবী ক্রুদ্ধ কেন?

এই প্রশ্ন যদি ওঠে, জবাব আছে কোনো?

 

ডানা স্ট্রিটে, একটি কপার বিচ।

প্রকাণ্ড, আমার শৈশবের গাছটির মতো,

তবে হিংস্রতা দিয়ে দেখতে তৈরি ছিলাম না তখন।

 

তীক্ষ আঙুলের মতো শিশু ছিলাম আমি,

তারপর অন্ধকারের একটি বিস্ফোরণ;

আমাকে নিয়ে মায়ের করার ছিল না কিছু।

চিত্তাকর্ষক, তা-ই না কি,

যে ভাষায় তিনি বলেছিলেন।

 

কপার বিচ যত্নে বেড়ে উঠছে প্রাণীর মতো

 

হতাশা, রোষ, প্রত্যাখ্যাত ভালোবাসার

আহত আত্মাভিমান—মনে পড়ে আমার

 

মর্ত্য থেকে স্বর্গে ওঠে। মনে পড়ে,

দুই মা-বাবা ছিল আমার,

একজন রূঢ়, একজন অদৃশ্য। হতভাগ্য

বিষণ্ন বাবা, যিনি কেবল সোনা-রুপার কাজই করতেন। 

[মার্কিন কবি ও প্রাবন্ধিক লুইস গ্লুক ১৯৪৩ সালের ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন অধ্যাপক। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধ সংকলনের মধ্যে রয়েছে—ওয়াইল্ড আইরিশ (১৯৯২), আভের্নো (২০০৬), মেডোল্যান্ডস (১৯৯৬), ফেইথফুল অ্যান্ড ভার্চুয়াস নাইট (২০১৪), আরারাত (১৯৯০), প্রুফস অ্যান্ড থিওরিজ (১৯৯৪), আমেরিকান অরিজিন্যালিটি ও ভাইট্যা নোভা। সদ্য নোবেলজয়ী এ কবির কবিতা দুটি মার্কিন সাময়িকী নিউ ইয়র্কার থেকে অনূদিত।]