অন্যের দোষ খোঁজা মুমিনের কাজ নয়

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:০৯

মানুষের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ানো খুবই নিন্দনীয় কাজ। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি কবিরা গুনাহ। নবি-রসুলগণ ছাড়া পৃথিবীতে নিরপরাধী কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই নিজে দোষী হয়ে অন্যের দোষ খোঁজা মুমিনের কাজ নয়। আল্ল­াহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সুরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন—‘হে মুমিনগণ, তোমরা বহু ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। অবশ্যই কতক ধারণা গুনাহ। আর কারো গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে।’ আল্ল­াহ্পাক এই আয়াতে কারিমায় মুমিনদের পারস্পরিক হক ও সামাজিক রীতির কথা উল্লে­খ করে তিনটি ব্যবহারিক বিষয়কে হারাম করেছেন—(১) কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা, (২) কারো গোপন বিষয় অনুসন্ধান করা এবং (৩) কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষচর্চা করা।

ইসলামি শরিয়ায় কারো প্রতি কু-ধারণা পোষণ করা হারাম। সার্বিক বিবেচনায় এর ক্ষতি মৌখিক মিথ্যার চেয়েও বেশি। কেননা মিথ্যা মুখে উচ্চারণ করলে তা হবে মুখের গুনাহ; আর মিথ্যা যদি অন্তরে লুকিয়ে রাখা হয়, তাহলে তা হবে অন্তরের গুনাহ, মুখের গুনাহের চেয়ে অন্তরের গুনাহ ভয়াবহ। তাই এ থেকে অবশ্যই আমাদের বিরত থাকতে হবে।

হজরত আয়েশা (রা) বলেন, একবার রসুলুল্ল­াহ (স) সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা কি জানো—আল্লাহ্র কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ কি? সাহাবিরা বললেন, আল্ল­াহ ও তার রসুলই ভালো জানেন। তখন নবিজি বললেন—‘সর্ববৃহত্ গুনাহ হচ্ছে—কোনো মুসলমানের সম্মানহানি করা।’ এ প্রসঙ্গে কোরআনুল কারিমে উল্লে­খ হয়েছে—‘যারা বিনা অপরাধে অহেতুকভাবে কোনো মুসলমান নর-নারীকে কষ্ট দেয় ও ক্ষতিগ্রস্ত করে, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্যে পাপের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহযাব, আয়াত-৫৮)। কোনো মানুষের ওপর প্রমাণ ছাড়া কু-ধারণা পোষণ করতে ইসলাম বারণ করেছে। বুখারির এক বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবি করিম (স) বলেন—‘তোমরা কু-ধারণা পোষণ করা থেকে বেঁচে থেকো, কেননা কু-ধারণা সবচেয়ে মিথ্যা।’ আল্লাহ আমাদেরকে অন্যের দোষ অনুসন্ধান থেকে বেঁচে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন!

lলেখক :খতিব ও ধর্মীয় গবেষক