দক্ষিণাঞ্চলের জলাশয়ে হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উত্পাদন। খাল-বিল ও জলাশয়ে কারেন্ট জাল, সূক্ষ্ম ফাঁসের বেহুন্তি জাল, মশারিনেটসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল দিয়ে নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে সব ধরনের পোনা মাছ। এই অঞ্চলের বিলুপ্ত প্রায় ১২ প্রজাতিসহ হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির মিঠা পানির মাছ।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিস, বাংলাদেশ গবেষণা ইন্সটিটিউট ও মত্স্য অধিদপ্তরের পৃথক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, দেশি প্রজাতির প্রায় ৯১টি মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে পাঙাশের দুইটি, গুতুমের দুইটি, চেলার সাতটি, ডানকিনার দুইটি, ঘরপুইয়ার দুইটি, মহাশীরের তিনটি, পুঁটির ১০টি, ভোলের দুইটি ও ট্যাংরার ছয়টি প্রজাতি।
জেলা মত্স্য অফিসের উপসহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান জানান, পটুয়াখালী এলাকার মিঠা পানিতে ২৬০ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি প্রজাতি বিলুপ্ত প্রায়। তবে আশার কথা এর কিছু কিছু প্রজাতি ঘেরে চাষের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পটুয়াখালীতে পিবিএইপি প্রকল্পের অনুসন্ধানে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—মাছের অতি আহরণ, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট তৈরিতে মাছের আবাসস্থল ধ্বংস, জলাভূমি ভরাট, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জৈবিক প্রভাব বিবেচনা না করা, কীটনাশক ব্যবহারে জলজ পরিবেশ দূষণ, বিদেশি মাছের যথেচ্ছ চাষাবাদ, ক্রমাগত ত্রুটিপূর্ণ প্রজননে মূল প্রজাতির পরিবর্তন ও জীনগত অবনতি ইত্যদি।
পটুয়াখালী জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ ইত্তেফাককে বলেন, দেশের নদী, খাল-বিল এসব প্রাকৃতিক উেস অবৈধ জাল ব্যবহার করার ফলে যেমনি মাছ নিধন হচ্ছে, তার সঙ্গে কৃষি কাজে ব্যবহূত সার, কীটনাশক মাটি চুইয়ে জলাভূমিতে মিশে যায়। যাতে প্রজনন ব্যাহত হয় ও উত্পাদন কমে যায়। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ দিয়ে খাল ভরাট করা, প্রজনন মৌসুমে পানি কমে যাওয়া, স্লুইস খালে ক্ষতিকর জাল ব্যবহার, আবাসস্থল পুরোপুরি শুকিয়ে ফেলা এবং ধ্বংস করার ফলে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মিঠা পানির মাছ। তিনি আরো বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ ও স্লুইস দেওয়া বন্ধ করা এবং খাল ও নদী দখল বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিলুপ্তির পথে মিঠা পানির মাছের প্রজনন স্থানগুলো নির্বিঘ্ন রাখতে হবে।
