নতুন ধরনের মাদকদ্রব্যের একটি চালান ধরেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। এই মাদকটির বেশ কিছু নাম রয়েছে। যেমন সেবু, ক্রিস্টাল ম্যাথ ও ডি-ম্যাথ। তবে এই মাদকের বৈজ্ঞানিক বা কেমিক্যাল নাম মেথাম ফিটামিন। যদিও এটি দেশে আইস নামেই বেশি পরিচিত। এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম বুধবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া, গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০০ গ্রাম মাদকদ্রব্য ‘আইস’ জব্দ করে। এ সময় তারা গ্রেফতার করে স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ ছয় জনকে। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন সিরাজ, অভি, জুয়েল, রুবায়েদ ও ক্যানি। গতকাল তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।
হাফিজ আক্তার বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে দেশে উচ্চবিত্তের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে এই দামি মাদকের বাজার ধরতে এটি আমদানি করা হয়েছিল। এটি অতি মূল্যবান মাদক। আসক্তদের কাছে ১০ গ্রাম বিক্রি করা হয় লাখ টাকায়। যার ফলে সমাজের অতি বিত্তশালীদের সন্তানেরা এটি সেবন করে থাকে। এই মাদকে আসক্তরা দীর্ঘ সময় কাজ ও চিন্তা করার সামর্থ্য রাখে বলে তিনি মনে করেন। যদিও দীর্ঘদিন এটি ব্যবহার করলে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। এটি গ্রহণে হেলুসিনেশন সৃষ্টি হয়।
মাদকটির পরিচয় দিতে গিয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, এটি স্নায়ু উত্তেজক ড্রাগ। এটি গ্রহণে হরমোন উত্তেজনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১ হাজার গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া এটি ইয়াবার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর।
তিনটি উপায়ে এই মাদক গ্রহণ করা হয়। আসক্তরা একটি কাচের বিশেষ পাত্রে বিক্রিয়া তৈরি করে ধূমপান করে, যাকে বলা হয়ে থাকে ‘বং’। এ ছাড়া ইনজেক্ট ও ট্যাবলেট হিসেবেও এটি গ্রহণ করা হয়। এটির উত্পত্তি অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, চায়নাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
শীর্ষ এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চন্দন রায় নামের এক ব্যক্তিকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০০ গ্রাম আইস উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকা। প্রতি ১০ গ্রাম মাদকের দাম ১ লাখ টাকা। সে হিসেবে প্রতি গ্রাম মাদকের দাম ১০ হাজার টাকা। এ সময় এই মাদক বহন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সিরাজ, অভি, জুয়েল, রুবায়েত ওরফে বং ও ক্যানিকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, চন্দন রায় মাদকের এই চালানের মূল ডিলার। তার প্রবাসী আত্মীয় শংকর বিশ্বাসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে বিমানযোগে দেশে আইস আনতেন। আইস মূলত সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির মাদক। মাত্র দুই-তিন কণার এই মাদক একবার নিতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। উচ্চবিত্তদের বিভিন্ন পার্টি বা ধনাঢ্য ব্যক্তির সন্তানদের টার্গেট করে আইসের বাজার সৃষ্টির চেষ্টা করছিল এই চক্র।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চন্দন রায় পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তবে তিনি নতুন এই মাদক আমদানি করে অভিজাত শ্রেণির মধ্যে পরিচিত করাচ্ছিলেন। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকের উত্স, আনার প্রক্রিয়া, অর্থায়ন এবং দেশের অন্যান্য চক্রের বিষয়গুলো তদন্তে উঠে আসবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী চন্দন রায়ের বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
