গুজবে কান দেওয়া

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৫

গুজবে কান দিয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া একটি অপরাধ। এই প্রবণতা বন্ধ করতে করণীয় সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো

গুজবে কান দিয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া একটি বিরাট অপরাধ। মাঝে মধ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল স্পর্শকাতর নানা বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে থাকে। ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মুহূর্তেই ধ্বংস্তূপে পরিণত করা হয় কোনো কোনো এলাকা,  অস্থিতিশীল করে তোলা হয় বাজার, অশান্ত করা হয় দেশ। তাই কোনো প্রকার গুজবে কান না দিয়ে সংবাদের সত্যতা যাচাই করা এবং  যদি কেউ গুজব সৃষ্টির চেষ্টা করে তাকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নেওয়া উচিত।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

মেরাদিয়া, ঢাকা

হিটলারের প্রচার মন্ত্রী ড. গোয়েবলস গুজবকে শিল্পেরূপ দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল তা অদ্যাবধি অঘোষিত স্বীকৃততত্ত্ব হিসেবে বিবেচিত। এই তত্ত্বকে যুদ্ধ, বাণিজ্য, ভুঁইফোঁড় আন্দোলনসহ নানা আঙ্গীকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলে সর্বদা তত্পর থাকে। এই তত্ত্ব এতই শক্তিশালী যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোক ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক দ্বন্দ্ব্বে এই তত্ত্বকে অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে ব্যবহার করে অহরহ নিজেদের ঘৃণ্য স্বার্থ হাসিল করে থাকে। সমাজে ন্যায় বিচারের অভাব, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারপ্রার্থীরা অনাকাঙ্ক্ষিত নানা বিড়ম্ব্বনা এড়িয়ে যেতে অনেক সময় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে ফায়দা লুটে থাকে; যা কোনো সভ্য সমাজে কখনো কাম্য নয়।

ভূঁইয়া কিসলু

মগবাজার, ঢাকা

ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি ও গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে  নাগরিকদের সতর্ক হওয়া জরুরি। কোনো বিষয়ে কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো দরকার। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ৯৯৯ এ কল করে দ্রুত পুলিশের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রধানরা জনসচেতনতামূলক  প্রচারণার মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

গুজব মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো অপরাধে প্রভাবিত করে। গুজব মানুষের জীবন ও সম্পদের  জন্য হুমকি স্বরূপ । তাই যারা  গুজব রটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে তাদের আইনের আশ্রয়ে আনতে হবে।

ফারজানা বিনতে মুরাদ

ঝিকরগাছা,

যশোর

কোনো প্রমাণ ছাড়া গুজবে কান দেওয়াটাই একটি অপরাধ। তদুপরি গুজবে কান দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াটাও গুরুতর অপরাধ । এক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। তবে সরকারের পক্ষ থেকেও এমন অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির  ব্যবস্থা রাখা উচিত।

জয়নাব চামেলি

রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

গুরুত্বপূর্ণ সত্য তথ্য ধামাচাপা দেয়ার ঘটনা থেকে গুজব প্রবণতা বৃদ্ধি পায় । ঘটনা-দুর্ঘটনা যখন প্রকাশিত হয় না, তখন সৃষ্টি হয় এক ধরনের সন্দেহ ও সংশয়। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

জিয়াউল হক সরকার

পূবাইল, গাজীপুর।  

যেখান থেকে গুজবটি শুরু হয় সেখানকার সচেতন মানুষ প্রথমেই তার বিরুদ্ধে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। কোনো গুজব শোনার পরে যাচাই করে স্থানীয় মসজিদে মাইকিংয়ের মাধ্যমে গুজব থামিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, ঢাকা

গুজব প্রতিরোধে আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এস কে মো. রমিজউদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে যখন ষড়যন্ত্র সফল হয় না, তখনই একটি শ্রেণি গুজব ছড়ায়। তাই আমরা প্রত্যাশা করব কেউ যেন গুজবে কান না দেয়।

মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

ইদানীং মানুষের মুখে মুখে যে কথাটি ছড়ায় সেটি যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে তখনই গুজব ডালপালা ছড়ায়। সামাজিক অস্থিরতা যে সমাজে বিরাজ করে  সেখানেই্্্্্ বিভিন্ন ধরনের গুজবের সৃষ্টি হয়।

মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল)

মধ্যপাড়া, বগুড়া

সুশাসনের অভাবে দেশে নানা ধরণের গুজব জন্ম নেয়। গুজবের কারণে চারদিকে অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। অস্থিরতা বাড়ছে। সুতরাং গুজবে কান দিয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া মোটেই কাম্য নয়।

বজলুল করিম

ধানমন্ডি, ঢাকা

একশ্রেণির মানুষ ব্যক্তি আক্রোশকে জনরোষে পরিণত করার জন্য বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটতে চেষ্টা করে। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জেল-জরিমানার মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এসব ব্যক্তিদের এ ধরনের হীন কাজ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সর্দারপাড়া,

মুন্সীগঞ্জ

গুজব ছড়ানো ভয়াবহ অপরাধ। এই অপরাধ দমনে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। গুজবের কারণে দেশ ও জাতি ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। সবাই গুজব থেকে দূরে থাকুন।

মনিরুজ্জামান

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ঢাকা

হুজুকে বাঙালির গুজবে কান দেওয়া একটি সংস্কৃতি। অনধিকার চর্চা করে আইন হাতে তুলে নেওয়া বড় অপরাধ। মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন, বিবেক, আদব ও সত্ আদশর্ ভিত্তিক পরিবার-সমাজ তথা রাষ্ট্র গঠন সুশিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। পাশাপাশি শতভাগ আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পারলেই এ ব্যাপারে প্রতিকার সম্ভব।

মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (নাছিম)

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

গুজব একটি বিধ্বংসী গোলার মতো। যার বিস্ফোরণে সমাজ  নিমিষেই ধবংস হয়ে যেতে পারে । এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে।

খন্দকার কামরুজ্জামান

মিরপুর, ঢাকা

গুজব একটি সামাজিক ব্যাধি। গুজবকারীকে ঘৃণার চোখে দেখতে হবে। তাহলেই সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে তারা গুজব রটনা থেকে বিরত থাকবেন। এ ব্যাপারে পোস্টার বা কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে গুজবকারীদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

গুজবে কান দেওয়া মোটেও উচিত নয়। কারণ, এতে শেষে বহু ধরনের অঘটন ঘটে যায়। সঠিক খবর যাচাইবাছাই না করে গুজব ছড়ানো একটি গর্হিত অপরাধ। হুট করে সংবাদের আগা-মাথা না দেখে, না বুঝে একটি মন্তব্য করা বা তথ্যের মাধ্যমে ছড়িয়া দেওয়া খুবই বিভ্রান্তিকর। যেখানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটবে সেখানেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

আলহাজ  মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী 

বি-বাড়িয়া সদর,

 বি-বাড়িয়া

গুজব ঠিক তখনই ছড়ায় যখন সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌছায় না। সুতরাং গুজবে কান না দিয়ে সঠিক ও তথ্য সমৃদ্ধ ঘটনার প্রতি আস্থা রাখা উচিত।

হোসনে আরা বাশার নীলা

নারীর কথা

হাজারী বাগ, ঢাকা

ধর্ম অবমাননার গুজব রটিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের অমানবিক ঘটনা সত্যি সবাইকে অবাক করে। গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

শিশির

পিলখানা , ঢাকা

করোনা ভাইরাস সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল তখন প্রবৃদ্ধিতে আশা জাগিয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ এ কথাটি সর্বজনবিদিত। দেশের এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কাম্য নয়।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

গুজবে কান দেওয়া উচিত নয়। গুজবের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট।

আজকাল ফেসবুকে গুজব ছড়ানো একটি রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও সজাগ হতেই হবে।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

ছোট ছোট গুজব অনেক সময় বড় বিপদ ডেকে আনে। ইদানীং গুজব মানুষের জীবনে নির্মম হয়ে উঠছে। গুজবের গজব থেকে মুক্তি কাম্য।

রাসেল আহমেদ

মুগদা , ঢাকা

সম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে কেউ বুঝে আবার কেউ না বুঝে গুজব রটিয়ে চলেছে। গুজবে কান দিয়ে অনেকেই নিজের জন্য ও পরের জন্য নির্মম পরিণতি ডেকে আনে । তাই যে কোনো বিষয়ে সত্য ও মিথ্যা যাচাই করা উচিত। সেই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।

মোহাম্মদ ইসলাম

পায়ের খোলা , কুমিল্লা

গুজব শুনে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। গুজব ছড়ানো অপরাধের সামিল। যারা গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা করছে তারা সচেতন নয়। গুজব মর্মান্তিক —এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা , রাজশাহী।