সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয় , চাঁদপুর
১। জাহিদ ও কামাল দুই বন্ধু। তারা দীর্ঘদিন বিদেশে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরেছে। জাহিদ দেশে ফিরে তার পছন্দের খাবার ভাত-মাছ, সবজি খেতে চাইল। অপরদিকে কামাল বিদেশি খাবারে অভ্যস্থ হয়ে জুস ও বার্গার খেতে চাইল। পোশাকের ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেল।
ক) সংস্কৃতি কী? খ) ‘টেরাকোটা হলো প্রাচীনশিল্পকর্মের প্রতিচ্ছবি’-ব্যাখ্যা করো। গ) দুই বন্ধুর সংস্কৃতির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো। ঘ) কামাল দেশীয় সমাজের সাথে নিজেকে কেন খাপ খাইয়ে চলতে পারছে না ? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক) উত্তর:সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবনধারা।
খ) উত্তর: টেরাকোটা হলো প্রাচীন শিল্পকর্ম যাতে মাটির ফলকে ছবি এঁকে ও পুড়িয়ে স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়। এক সময় ছাঁচ অনুযায়ী মাটির তৈরি ইট দিয়ে মন্দির বানানো হতো। এই ছাঁচগুলোতে থাকত টেরাকোটার কাজ। দিনাজপুরের কান্তজির মন্দিরে এভাবে পোড়ামাটির শিল্পকর্মে রামায়ণের কাহিনীসহ সামাজিক জীবনের নানা চিত্র ফুটে উঠেছে। পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারেও পোড়ামাটির প্রচুর কাজ আছে। এতে সেকালের সমাজ জীবনের ছবি পাওয়া যায়। তাই বলা যায় এগুলো প্রাচীন শিল্পকর্মের প্রতিচ্ছবি।
গ) উত্তর:উদ্দীপকে বর্ণিত জাহিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদর্শ এবং কামালের মধ্যে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ লক্ষণীয়। সাংস্কৃতিক আদর্শ বলতে কোনো দেশে বা সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতির ধরনকে বোঝায়। অন্যদিকে আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। উদ্দীপকে এ দুটির প্রতিচ্ছবি বিদ্যমান। উদ্দীপকের দুই বন্ধু জাহিদ ও কামাল দীর্ঘদিন বিদেশে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরেছে। জাহিদ দেশে ফিরে তার পছন্দের খাবার ভাত-মাছ, সবজি খেতে চাইল। যেটি আমাদের সংস্কৃতির আদর্শ। অপরদিকে বিদেশি খাবারে অভ্যস্ত কামাল জুস ও বার্গার খেতে চাইল। যা হলো সংস্কৃতির আত্তীকরণ। যখন মানুষ কোন নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি , আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ এক কথায় সমগ্র জীবনধারার সাথে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের উল্টো চিত্র হলো সাংস্কৃতিক আদর্শ। প্রতিটি দেশ বা সমাজের রয়েছে সাংস্কৃতিক আদর্শ। এর মাধ্যমে একটি দেশ বা সমাজের মানুষের জীবনধারা ও বৈশিষ্ট্য ফুঠে উঠে।
