চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণে বড় বাধা কর্ণফুলী নদী ও সাগর। এই বিমানবন্দরের রানওয়েকে ১২ হাজার ফুটে সম্প্রসারিত করার কথা বলা হলেও দুই দিকে এ দুই প্রতিবন্ধকতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক মান অনুসারে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের বর্তমান যে দৈর্ঘ্য, তাতে সব ধরনের বিমান ওঠানামা করতে পারলেও চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট যাত্রীবাহী ডাবল ডেকার এয়ারবাস-৩৮০ ওঠানামা করতে পারে না। বর্তমানে এয়ার এমিরেটসসহ বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনসের রয়েছে এ ধরনের বিমান। এছাড়া বেশি লোড নেওয়া বিমানের উড্ডয়নের জন্যও ১২ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। কিন্তু চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের বর্তমান দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ৬৬৫ ফুট। সরকারের ঊর্ধ্বতন এক সূত্র চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য আরো ৪০০ ফুট বাড়ানোর কথা বলেছেন বলেও বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ইত্তেফাককে জানিয়েছে।
ব্যবসায়ী সূত্রগুলো জানায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পসহ ব্যাপক উন্নয়ন তত্পরতা চলছে। ফলে চট্টগ্রাম আক্ষরিক অর্থেই ‘ইকোনমিক হাব’-এ উন্নীত হয়েছে। এখানে প্রতিদিন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা বাড়ছে। এছাড়া চট্টগ্রামে রয়েছে অন্তত তিনটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল। এর সব কটির সঙ্গেই বিদেশি উদ্যোক্তারা যুক্ত। এখানে উত্পাদিত পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিও হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বিভিন্ন পণ্যের এয়ারশিপমেন্ট ও ট্রান্সপোর্টের প্রয়োজনীয়তা তাই দিনে দিনে বাড়ছে। কাজেই এখানে সব ধরনের বিমান যাতে স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করতে পারে, সেজন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের রানওয়ে প্রয়োজন।বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘দেশের সব বিমানবন্দরের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন। কোভিড-১৯-এর বিশ্বব্যাপী মহামারি পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দর উন্নয়নের বড় কাজগুলো বন্ধ ছিল। বর্তমানে কাজ শুরু হয়েছে। বরিশাল বিমানবন্দরের পরই চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হবে। আপাতত যেটা করা হবে, সেটি হচ্ছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েকে মজবুত করে এর শক্তি বৃদ্ধি করা। রানওয়েকে ১২ হাজার ফুটে সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে একদিকে টানেল সড়ক ও নদী, অন্যদিকে সাগরের বাধা আছে। তবে এই সম্প্রসারণটা দরকার। অবশ্য এই রানওয়ে আরো ১ হাজার ফুট বাড়ানো যাবে। এসংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করা হবে। ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে দেড় হাজার ফুটে উন্নীত করা হবে। তার পাশে আরো একটি রানওয়ে করা হবে এয়ারক্রাফট ল্যান্ডিং ও টেকঅফের সুবিধার জন্য। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ১২ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের রানওয়ের প্রয়োজন পড়বে না। কারণ আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যেই বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলো তাদের বহর থেকে এয়ারবাস-৩৮০ বিমানের চলাচল বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউজবিষয়ক) খায়রুল আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টসহ অনেকগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠতে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর্ণফুলীর নিচ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল উল্লেখযোগ্য। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে যাতে সব ধরনের বিমান চট্টগ্রামে স্বচ্ছন্দে ওঠানামা করতে পারে, সেজন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দরসহ রানওয়ের উন্নয়ন প্রয়োজন।
