সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮

কসবায় ট্রাক-সিএনজি ও কারের সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জন নিহত

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৬

গতকাল শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত আট জন নিহত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রাক-সিএনজি-প্রাইভেট কারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জন নিহত হন। মুন্সীগঞ্জে রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়িচাপায় দাদি-নাতি নিহত হন। বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় এক ট্রাকচালক ও তার সহকারী মারা যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ এলাকায় ট্রাক-সিএনজি-প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জন নিহত হয়েছে। এ সময় কার চালকসহ আরো চার যাত্রী গুরুতর আহত হন। নিহতরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর থানার যাত্রাপুর গ্রামের নাবালক মিয়া (৭২), তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৬০), ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা (৫৫) ও নাতনি নাদিয়া (৫)। আহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটিয়ারা গ্রামের বিল্লাল মিয়া, সুনামগঞ্জের ছাতক নরসিংহপুরের বাসিন্দা কার চালক সালমান, নিহত নাবালক মিয়ার ছোট ভাই মুরাদনগর থানার যাত্রাপুর গ্রামের খুরশেদ আলম (৬০) ও নাতনি জান্নাত (৪)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কুটি-চৌমুহনী থেকে খুরশিদ মিয়া সিএনজি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার পথে মহাসড়কের ঐ এলাকায় কুমিল্লাগামী ট্রাকের সঙ্গে সিএনজি ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ডা. এ বি এম মুসা চৌধুরী চার জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চার জনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ট্রাকটি আটক করা গেলেও চালক পালিয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে গাড়িচাপায় দাদি-নাতি নিহত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শ্রীনগরে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িচাপায় দাদি ও নাতি নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হাঁসাড়া স্কুলগেট নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহত মিনু মল্লিক (৭০) তার নাতি অচিন মল্লিককে (৮) নিয়ে হাঁসাড়া স্কুলগেটের পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশে যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে মাওয়াগামী খয়রি রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় নাতি অচিন মল্লিক ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় এবং মুমূর্ষু অবস্থায় দাদি মিনু মল্লিককে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহতদের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের কালশুর গ্রামে। মিনু মল্লিক তার নাতি অচিন মল্লিককে নিয়ে নাগেরপাড়ায় মেয়ে জামাই কাজল মণ্ডলের বাড়িতে দুই দিন আগে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে তারা নিজ বাড়িতে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মসিউর রহমান মামুন বলেন, ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে এক্সপ্রেসওয়ের বেশ কয়েটি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় ট্রাকচালক

ও সহকারী নিহত

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বিকালে বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি ট্রাকে যাত্রীবাহী একটি বাস এসে ধাক্কা দিলে এক ট্রাকচালক ও তার সহকারী নিহত হন। এ সময় আরো দুই ট্রাকচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের বগুড়ায় শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উপজেলার মির্জাপুর আমবাগান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া কলোনি গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে ট্রাকচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক (৩০) ও তার সহকারী একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আবু সাঈদ (২৮)।

হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর দশমাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আশরাফ আলী জানান, মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত দুটি ট্রাক উক্ত স্থানে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী রেজভি পরিবহনের একটি বাস এসে দাঁড়ানো ট্রাকগুলোর পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে একটি ট্রাকের চালক ও তার সহকারী নিহত হন। আহত হন আরেক ট্রাকের চালক মো. জাকির হোসেন ও মো. সৈকত মিয়া। বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হবে।