জনবলের অভাবে চালু হচ্ছে না আইসিইউ
আলমগীর ইউসুফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি
শীতে দ্বিতীয় ধাপে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা আলোচনায় থাকলেও সংক্রমণকে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছেন না জেলার অধিকাংশ মানুষ। শারীরিক দূরত্ব দূরের কথা, মাস্ক পরতেও ৭০ ভাগ মানুষের অনীহা। সরকারি বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা সর্বত্র। জেলা শহর মাইজদী, বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী ও উপজেলা সদরগুলোর হাটবাজার, দোকানপাট, যানবাহন, মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ সর্বত্র একই চিত্র। করোনায় আক্রান্তের আশঙ্কা থাকলেও অনেকে এখন নমুনা পরীক্ষা করতে আসেন না হাসপাতালে। গত তিন মাস আগে করোনা সংক্রমণের প্রকটকালে বৃহত্তর নোয়াখালীর জন্য নির্ধারিত জেলার আবদুল মালেক মেডিক্যাল কলেজে এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব দুইটিতে দুই থেকে আড়াই হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এখন পরীক্ষা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০। তার মধ্যে ৮০ ভাগ বিদেশগামী। নমুনা পরীক্ষায় কিট সংকটও নেই এই দুই ল্যাবে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত জেলায় করোনায় মারা যান ৮৮ জন, আক্রান্ত হন ৫ হাজার ১৩৪ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৮০১ জন এবং আইসোলেশনে ২৪৫ জন রয়েছেন। এদিকে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে নোয়াখালী শহিদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত কোভিড হাসপাতাল এবং জেলার আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আছে চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী। একই সঙ্গে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্কতা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা ও আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সব তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার ও কোভিড হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল সমন্বয়ক ডা. নিরূপম দাস। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেছেন, সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও ব্যবসায়ী নেতা, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়েছে। ‘মাস্ক ব্যবহার না করলে সেবা দেওয়া হবে না’ এই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জেলার একমাত্র কোভিড হাসপাতালে চিকিত্সার প্রস্তুতি সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লিনিক্যাল সমন্বয়ক ডা. নিরূপম দাস বলেছেন, কোভিড সংক্রমণের প্রথম দিকে ৭০/৭৫ জন রোগী ভর্তি ছিল। এখন তা নেমে চার/পাঁচ জনে এসেছে। ৮০ বেডের এ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডের জন্য ৬০ বেড ও আলাদা ২০ বেডের আইসোলেশন ইউনিট রয়েছে। করোনা ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম ও তিনটি হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা চালু রয়েছে। নেই আইসিইউ। এ অবস্থায় ৯৫ ভাগ রোগীর চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব। অন্য পাঁচভাগ জটিল রোগীর চিকিত্সা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সদ্য স্থাপিত আইসিইউ দুটি চালু হলে পুরো চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব। কোভিড হাসপাতালের আইসিইউ চালু না হওয়ার বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, এ হাসপাতালের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুটি ভেন্টিলেটর দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে তার তত্ত্বাবধানে সেগুলো স্থাপন করা হয়। তখনই জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠিয়েছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে জনবল পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
