স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
দেশের উত্তরের জনপদ দিনাজপুর ও আশপাশের জেলায় হঠাত্ করেই জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। অব্যাহত গরমের পর তিন দিন ধরে অনুভূত হচ্ছে শীত। বিকাল হতেই শীত লাগছে এবং তা অব্যাহত থাকছে সকাল অবধি।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত ৩ নভেম্বর দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম দিনে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে হঠাত্ ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। এই অবস্থায় গত ৪ নভেম্বর বুধবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং গত বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এখন পর্যন্ত এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তিনি আরো জানান, শুক্রবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছরে ব্যাপক বৃষ্টি ও বন্যা হয়েছে। তাই মাটি আর্দ্র ও বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্য বেশি। সে কারণেই গত শীত মৌসুমের চেয়েও এবার বেশি শীত অনুভূত হতে পারে।
এদিকে গত কয়েক দিন আগেই এই অঞ্চলে তীব্র গরম অনুভূত হলেও হঠাত্ করেই বর্তমানে শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় শীতের গরম কাপড় বের করতে শুরু করেছে এই অঞ্চলের মানুষ। সন্ধ্যা থেকে সকাল অবধি ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ছে এই জনপদের বিভিন্ন এলাকা। সকালে সূর্যের দেখা মিলছে অনেক বেলা হওয়ার পর। সকালবেলা শিশিরে ভিজে যাচ্ছে ঘাসসহ মাঠের বিভিন্ন ফসল।
দিনাজপুর শহরের সাহেব আলী জানান, বৃহস্পতিবার দিনে গরম অনুভূত হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন হাফ শার্ট পরে। কিন্তু রাত ১০টায় যখন তিনি বাড়ি ফিরেন, তখন তীব্র শীতের কারণে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। তীব্র শীতে মোটরসাইকেল নিয়ে এগুতেই পারছিলেন না তিনি। একই শহরের ফখরুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন আগেই বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান) চালু করে রাতে ঘুমাতে হচ্ছিল। কিন্তু বুধবার দিবাগত রাতে ফ্যান তো দূরের কথা হঠাত্ করেই শীতের কারণে গত শীত মৌসুমের পর বাক্সবন্দি থাকা কম্বল বের করতে হয়েছে তাকে। তিনি জানান, এবার আগেভাগেই হঠাত্ শীত অনুভূত হওয়ায় অনেকেই বলছেন বেশি শীত পড়বে। একই রকম কথা জানান এই জনপদের মানুষ। গত শুক্রবার সকালে এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালে চাদর অথবা গরম কাপড় মুড়িয়ে কাজে বের হয়েছেন গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া মানুষ।
