মোবারকগঞ্জ চিনিকল
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের কাছে গত মাড়াই মৌসুমে বিক্রি করা আখের দাম বাবদ চাষিদের এখনো প্রায় দেড় কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমন অবস্থায় দিনের পর দিন ঘুরেও পাওনা টাকা পাচ্ছেন না চাষিরা। তাছাড়া, বিক্রি হচ্ছে না মিলের গুদামে মজুত চিনিও।
এদিকে, মিলটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। অর্থাভাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা আটকে আছে। বকেয়া পড়েছে তাদের তিন মাসের বেতনভাতা। এতে শ্রমিক-কর্মচারীরা সংসার চালাতে সংকটে পড়েছেন। সূত্র জানায়, শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য ৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। মোবারকগঞ্জ চিনিকল আখ চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মন্টু জানান, সমিতির পক্ষ থেকে চাষিদের পাওনা পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেনদরবার করা হচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে চাষিরা আখ চাষ ছেড়ে দেবেন। আর সংকটে পড়বে চিনি শিল্প করপোরেশন। মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, এ মিলে ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারী তিন মাস বেতন না পাওয়ায় পরিবারপরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ঢাকার চিনি শিল্প করপোরেশনের কর্মকর্তাদের এটা গাফেলতি বলে তিনি অভিযোগ করেন। অবিলম্বে তিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতনভাতা প্রদানের দাবি করেন।
মোবারকগঞ্জ চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার কবির জানান, মিলের গুদামে ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৭০০ টন চিনি মজুত রয়েছে। চিনি বিক্রি না হওয়ায় মিলটি অর্থিক সংকটে পড়েছে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে চাষিদের পাওনা টাকা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের চেষ্টা চলছে। মোবারকগঞ্জ চিনিকল একটি বড় লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরেও (২০১৯-২০২০) মিলটির ৩৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর চলতি মৌসুমের উত্পাদন শুরু হবে।
