ভোটে হেরে যাওয়ার আভাস পেয়ে নির্বাচনি প্রচার শিবির ও হোয়াইট হাউজের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চুপিসারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন বলে হোয়াইট হাউজ ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন শুক্রবার ভোটের হিসাবে পেনসিলভেনিয়া ও জর্জিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টপকে যাওয়ার পর ঐ কর্মকর্তারা সরতে শুরু করেন বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যে পাঁচটি রাজ্যের ভোটের ফল এখনো আসার অপেক্ষায় রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে পেনসিলভেনিয়ায় ২০টি। এছাড়া জর্জিয়ায় ১৬, নর্থ ক্যারোলাইনায় ১৫, অ্যারিজোনায় ১১ ও নেভাডায় ছয়টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভেনিয়া, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় বৃহস্পতিবার নাগাদ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পোস্টাল ব্যালটের ওপর ভর করে শুক্রবার পালটে গেছে চিত্র, এখন শুধু নর্থ ক্যারোলাইনা ছাড়া সবগুলোতে এগিয়ে আছেন বাইডেন।
এখনো জয়-পরাজয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা না গেলেও এরইমধ্যে ২৫৩টি ইলেকটোরাল ভোট পক্ষে আসা বাইডেনেরই জয়ের আভাস মিলছে। শুধু পেনসিলভেনিয়ায় জয় এলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০টির বেশি ইলেকটোরাল ভোট চলে আসবে তার পক্ষে। সেখানে জর্জিয়া, অ্যারিজোনা ও নেভাডায়ও ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। তাছাড়া পোস্টাল ভোট গণনা শুরুর পর চিত্র পালটাতে থাকায় ডেমোক্র্যাট শিবিরের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ানো যে পেনসিলভেনিয়ায় এক দিন আগেও ১ লাখের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প, সেখানে এখন ১৩ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে গেছেন বাইডেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের আরেক উপদেষ্টা সিএনএনকে বলেন, নির্বাচন ‘চুরি হয়ে যাওয়ার’ যে অভিযোগ ট্রাম্প করেছেন, সে বিষয়ে তিনি ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন।
এই দুই উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, এখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আশপাশে এমন কিছু পরামর্শক ও সহযোগী রয়েছেন যারা সেটাই বলেন যেটা তিনি শুনতে চান। এই বিষয়টিই নাটক দীর্ঘায়িত করবে বলে তাদের ধারণা। তবে এরইমধ্যে ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে কেউ কেউ ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন বলে এক উপদেষ্টার বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
