কক্সবাজার প্রতিনিধি
বালু তোলা বন্ধ রাখতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ার জাংছড়ি বালু মহাল থেকে দিনে-রাতে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে জাংছড়ি মহাল থেকে প্রায় ৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে সিন্ডিকেট আয় করেছে ৬০-৭০ লাখ টাকা। কিন্তু এ থেকে সরকার এক পয়সাও রাজস্ব পায়নি। একটি চক্র এ বালু উত্তোলন ও বেচাকেনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা স্বীকার করেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা বলবত্ থাকার পরও একটি প্রভাবশালী চক্র বালু তুলছে। একাধিক অভিযানের পরও তাদের প্রতিহত করা যায়নি। চক্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ১০০ ডাম্পার বালু বিক্রি করা হচ্ছে। জাংছড়ির কয়েকটি স্থানে মজুত আছে অর্ধলাখ ঘনফুট বালু। প্রতি ডাম্পার বালু বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। পাহাড়ি জনপদের বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনা নির্মাণকাজে এই বালু সরবরাহ হচ্ছে। সূত্র মতে, দুই বছর আগে জাংছড়ি বালু মহালটি ইজারা পেয়েছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ইজারার বিপরীতে তিনি সরকারকে বছরে রাজস্ব দিতেন ৩ লাখ টাকার বেশি। মাঝে এক বছর অন্য আরেক জন ইজারা পান। ১৪২৬ বাংলা সনে আবারও আবদুল্লাহ ইজারা পেয়েছেন। কিন্তু বালু মহালের দখলস্বত্ব তাকে বুঝিয়ে দেয়নি প্রশাসন। আবদুল্লাহ বলেন, জেলা প্রশাসন তাকে জায়গা বুঝিয়ে দিতে পারেনি। কিন্তু এলাকায় কিছু প্রভাবশালী মহাল থেকে বালু উত্তোলন করে চলেছে। মহালের দখলস্বত্ব বুঝিয়ে দিতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট এক বছরের জন্য বালু উত্তোলন স্থগিত রাখার আদেশ দেন। তিনি আরো বলেন, আদেশের মেয়াদ শেষ হলে হাইকোর্ট একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। গত ১১ আগস্ট জারি করা ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, স্থিতাবস্থা, স্থগিতাদেশ প্রদান করা হয়েছে সেসব মামলার আদেশের কাযর্কারিতা উচ্চ আদালত পূর্ণাঙ্গরূপে খোলার তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে মর্মে গণ্য করা হবে।
কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও প্রভাবশালী মহল তাতে তোয়াক্কা না করে দৈনিক অন্তত ১০০ ডাম্পার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে চলেছে। সম্প্রতি দেখা গেছে, জাংছড়ি খালের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মেশিনের মাধ্যমে বালু তুলে তা মজুত হচ্ছে পাশের জমিতে। সেখান থেকে ট্রাকবোঝাই করে সেই বালু কক্সবাজার শহর, ঈদগাঁও, রামু, চকরিয়া উপজেলায় সরবরাহ হচ্ছে।
