প্রথম নারী ও কৃষাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ০১:০৭

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ভারতীয় বংশোদ্ভুত ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন কমলা হ্যারিস। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার হোয়াইট হাউজে তিনি দ্বিতীয় ক্ষমতার অধিকারী হলেন। খবর বিবিসির

কমলা হ্যারিস নিজেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রথম দিকের বিতর্কগুলোতে ভালো করার পর তিনি সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রথম কাতারেও চলে এসেছিলেন। আমেরিকায় বর্ণবৈষম্যের ব্যাপারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের টিভি বিতর্কে জো বাইডেনকেও তিনি প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে ছাড়েননি। তবে ২০১৯ সালের শেষ দিকে এসে তার মনোনয়ন পাওয়ার যুদ্ধ মুখ থুবড়ে পড়ে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসাবে জো বাইডেনই এগিয়ে যান। কিন্তু সেই বাইডেনেরই রানিংমেট হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর ৫৫ বছর বয়স্ক এই সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আবার ফিরে আসেন মনোযোগের কেন্দ্রে।

অভিবাসী পরিবারে জন্ম, গর্বিত কৃষ্ণাঙ্গ' হিসেবে বেড়ে ওঠা

কমলা হ্যারিসের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যা–ে। তার পিতা ডোনাল্ড জে হ্যারিস একজন জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান এবং তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক। আর মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্যামলা গোপালন একজন ক্যান্সার গবেষক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী। কমলার মা-বাবার বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি এবং তার বোন মায়াকে লালন-পালন করেন প্রধানত শ্যামলা গোপালন একাই।

কমলা ভারতীয় হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েই বড় হন, মায়ের সঙ্গে ভারতে বেড়াতেও গিয়েছেন তিসিভ তবে কমলা হ্যারিস বলেন, তার মা ওকল্যান্ডের কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতিকে গ্রহণ করেছিলেন এবং তার মধ্যেই তার দুই মেয়েকে বেড়ে উঠতে দিয়েছেন। কমলা হ্যারিস তার আত্মজীবনী ‘দ্য ট্রুথস উই হোল্ড’ এ লিখেছেন, আমার মা খুব ভালো করেই বুঝেছিলেন যে তিনি দুটি কৃষ্ণাঙ্গ কন্যাসন্তানকে বড় করছেন। তিনি জানতেন, যে দেশকে তিনি স্বদেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন সেখানে মায়া এবং আমাকে কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে হিসাবেই দেখা হবে। আর তাই আমরা যেন আত্মবিশ্বাসী ও গর্বিত কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে বেড়ে উঠি তা তিনি দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত কতে চেয়েছিলেন। গোপালন কিছুকাল কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছিলেন। সেকারণে কমলা ও মায়া পাঁচ বছর মন্ট্রিয়েলেও ছিলেন এবং সেখানকার স্কুলে পড়েছেন। কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিকভাবেই কৃষ্ণাঙ্গদের প্রধান কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম ছিল। তিনি বলেন, তিনি সবসময়ই তার পরিচয় নিয়ে দ্বিধাহীন ছিলেন এবং নিজেকে 'একজন আমেরিকান' হিসেবে বর্ণনা করেন।

আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে

কমলা হ্যারিস আইনের ডিগ্রি নেন হেস্টিংসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এবং কাজ শুরু করেন আইনজীবী হিসাবে। পরে তিনি প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হন এবং দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৪ সালে বিয়ে করেন আইনজীবী ডগলাস এমহফকে এবং এখন তিনি দুটি সন্তানের বিমাতা। এরই মধ্যে ডেমোক্র্যটিক পার্টির একজন উদীয়মান তারকা হিসাবে কমলা হ্যারিসের সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ২০১৭ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার জুনিয়র সিনেটর নির্বাচিত হন।

‘প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন কড়া সমালোচক। তাছাড়া সিনেটের বিভিন্ন শুনানীতে আগতদের কড়া প্রশ্ন করার জন্যও তিনি বিখ্যাত হন। কমলা হ্যারিস অ্যাটর্নি জেনারেল থাকার সময় সমকামীদের বিয়ে এবং মৃত্যুদন্ডের মতো বিষয়ে বামঘেঁষা অবস্থান নিলেও প্রগতিশীলরা কখনো কখনো তাকে যথেষ্ট প্রগতিশীল না হওয়ার জন্য তার সমালোচনা করেছেন। কমলা হ্যারিস প্রায়ই বলেন যে তার আত্মপরিচয়ই তাকে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত করে তুলেছে।