আতাউর রহমান সায়েম
সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, বাংলা বিভাগ
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই সম্প্রতি মাউশির নির্দেশনায় তোমরা বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টের কাজ সম্পর্কে জানতে পেরেছ। তোমাদের অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের প্রথম সপ্তাহে একটা নির্ধারিত কাজের শিরোনাম হচ্ছে- মনে করো, তোমরা কোনো স্থানে শিক্ষা সফরে গেছ এবং সেখানে কী কী দেখেছ- এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা দিয়ে হাতে লিখে একটা অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে হবে। প্রথমে তোমরা কিছু এ-ফোর কাগজ, কিছু কালো কলম ও সাইনপেন কিনবে। প্রত্যেক পৃষ্ঠায় ভালো করে মার্জিন দিবে। উভয় পৃষ্ঠায় লেখা যাবে না। শুরুতেই কাভার পেজে তোমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম (প্রতিষ্ঠানের লগো না দিলেও হবে), নির্ধারিত কাজের শিরোনাম, বিষয়, তোমার পরিচয়, মূল্যায়নকারী শিক্ষকের পরিচয়, জমাদানের তারিখ লিখবে এবং পরের পৃষ্ঠায় শিক্ষা সফরের বর্ণনা পয়েন্ট দিয়ে লিখলে সূচিপত্র দিবে। আর যদি পয়েন্ট না দিয়ে প্যারা করে লেখো, তাহলে সূচিপত্র দিবে না। পরের পৃষ্ঠায় ঐ শিরোনাম লিখে নিম্নের নমুনা অনুসরণ করতে পার।
শিরোনাম: বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষা সফর
প্রস্তুতকারী:এস.এম.সাফওয়ান সানযারী মুগ্ধ
শ্রেণি:অষ্টম, শাখা: এইচ
ক্রমিক নম্বর: ০১
মতিঝিল ইংলিশ ভার্সন (দিবা শাখা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা— ১০০০
মূল্যায়নকারী:মো. আতাউর রহমান সায়েম
সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, বাংলা বিভাগ
মতিঝিল ইংলিশ ভার্সন (দিবা শাখা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা— ১০০০
জমাদানের তারিখ:১১ নভেম্বর, ২০২০ খ্রি:
শিক্ষকের মন্তব্য:
বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষা সফর:
‘দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু
দেখা হয়নি চক্ষু মিলিয়া
ঘর হতে শুধু দু পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপর
একটি শিশির বিন্দু।’
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভ্রমণ মানুষকে কূপমণ্ডুকতার ছত্রছায়া থেকে মুক্ত করে বিশাল পৃথিবীর অপার সৌন্দর্যের মধ্যে ঠাঁই দেয়। মানুষের মনকে করে তোলে উদার। ক্ষুদ্র এ মানবজীবনকে দান করে গতিশীলতা। আর সেই ভ্রমণ যদি হয় শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে তাহলে তো কথাই নেই। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে মানুষের অসম্পূর্ণ ও আবদ্ধ জ্ঞান বিকাশ লাভের সুযোগ পায়। শিক্ষা সফর একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে করে আনন্দময় ও পরিপূর্ণ। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায় নিজের দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তথা নিজের শেকড় সম্পর্কে জানতে।
আমরা এ পৃথিবীর অনেক কিছুই জানি না। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঐকতান’ কবিতার ভাষায়— ‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।’ তাই নতুন কিছু জানার জন্য, শেখার জন্য, এমনকি একঘেয়েমি দূর করার জন্য শিক্ষা সফরের গুরুত্ব অনেক। কারণ শিক্ষা সফরে শুধু আনন্দই হয় না, অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন স্বচক্ষে দেখতে পাওয়া যায় এবং জ্ঞান আহরণ করা যায়। আমাদের এ শিক্ষা সফরের বিবরণী হয়তো বিখ্যাত রম্য লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর বিভিন্ন ভ্রমণকাহিনির মতো নয়; কিংবা অপরাজেয় কথাশিল্পী শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের ভারতের ঝাড়খণ্ড প্রদেশের দেওঘরের মতো ভ্রমণকাহিনি নয়। তবে সম্প্রতি মাউশি থেকে পাঠানো অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের আলোকে আমাদের শিক্ষা সফরের কিছু বিবরণী লেখার চেষ্টা করছি মাত্র। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যেহেতু বৈশ্বিক কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সেহেতু এ বছর আমরাও শিক্ষা সফরে যেতে পারিনি। তাই গত বছরের আমরা যে দুটি ঐতিহাসিক জায়গায় শিক্ষা সফরে গিয়েছিলাম, সেখানকার বেশ কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতা নিম্নে তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি।
২০১৯ সালে আমরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির এইচ শাখার শিক্ষার্থী ছিলাম। আমাদের গত বছরে শ্রেণিশিক্ষক আতাউর রহমান সায়েম স্যারের কাছে জানতে পারি যে, মাউশি থেকে পাঠানো এক পরিপত্রে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’— এ বিষয়কে ধারণ করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাত্কার নিয়ে আমাদেরকে ৩০/০৯/২০১৯ তারিখের আগেই একটি ডকুমেন্টরি তৈরি করে ও প্রতিবেদন লিখে জমা দিতে হবে। তাই স্যার আমাদেরকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে ১০ জন করে গ্রুপ ভাগ করে দিয়েছিলেন।
আমাদের গ্রুপের নাম ‘চেতনা-৭১’। আতাউর রহমান স্যার আমাদেরকে মাহবুব উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮ নম্বর সেক্টরে আলফা কোম্পানির সাব কমান্ডার ছিলেন। তিনি ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠনে মেহেরপুরে প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন এবং ১৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ সালে ঢাকার পুলিশ সুপার হিসেবে রাজারবাগে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ প্যারেডে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন। এমন মহান বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাত্কার নিয়ে ডকুমেন্টরি তৈরি করতে হবে বলে আমরা অনেক আনন্দিত হলাম।
স্যারের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা কয়েক বন্ধু মিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ভাবতে থাকি। মোবাইল, ভিডিও ক্যামেরা, ডিজিটাল ব্যানার, ক্রেস্ট, ফুলের তোড়া ইত্যাদি কাজে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে আমরা ১৭/০৯/২০১৯ তারিখে প্রথম পিরিয়ডের পর আমাদের মতিঝিল ইংলিশ ভার্সন থেকে দুপুর ১টায় বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, রাজারবাগে যাই। সেখানে সিনিয়র এ.এস.পি. নজরুল ইসলাম স্যারের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা জাদুঘরে প্রবেশ করি এবং বিভিন্ন আর্কাইভস দেখতে থাকি। কিছুক্ষণ পরে মাহবুব উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম স্যারের সঙ্গে পরিচয় হয় ও কুশল বিনিময় করি এবং ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’— এ বিষয়কে ধারণ করে স্যারকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে ভিডিও চিত্র ধারণ করি। বীর বিক্রম মাহবুব স্যার মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ব্যবহূত রাইফেলটি আমাদেরকে এই জাদুঘরে দেখান এবং তাঁর সহযোদ্ধাদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। আবার বীর বিক্রম মাহবুব স্যারের পরামর্শে ২৫/০৯/২০১৯ তারিখে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পরিকল্পনা করি। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, রাজনীতির কবি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে ঐ জায়গায় (রেসকোর্স ময়দান) বাঙালি জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক প্রায় ১৮ মিনিটের ভাষণ প্রদান করেছিলেন যা পরবর্তী সময়ে (৩০ অক্টোবর, ২০১৭) UNESCO ‘বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ ভাষণ ও বিশ্বের ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাই স্থানটির বিশেষ গুরুত্ব ভেবে আমরা ডকুমেন্টরি আরো ভালোভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা করতে থাকি।
পরের অংশ আগামীকাল
