একজন সব্যসাচীর স্বপ্ন পূরণের গল্প

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:০৩

  জান্নাতুল ফেরদৌস

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টাকে যারা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে জানেন তারাই সফলতাকে স্পর্শ করতে পারেন। আর স্বপ্নবাজ মানুষেরা শুধু স্বপ্ন দেখেন না, তা পূরণ করে দেখান। তেমনি একজন স্বপ্নবাজ তরুণ জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় সেরা থাকার পাশাপাশি এগিয়ে ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে। তার সঙ্গে কথা হয় স্বপ্ন পূরণের নেপথ্যের গল্প নিয়ে। জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকেই মনোযোগী ছিলেন পড়াশোনার প্রতি। যার ফলস্বরূপ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় ফলাফলেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। স্নাতকে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.৯৩ পেয়ে তিনি অর্জন করেন ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে প্রথম হওয়ার গৌরব। লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৬। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ভূষিত করা হয় চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডে। স্নাতকের ফলাফলের জন্য সেখানেও জিতে নেন চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড। স্নাতকোত্তরের ফলাফলেও দেখান নিজের মুন্সিয়ানা, অর্জন করেন সিজিপিএ ৩.৯৪ ।

ব্যবসায়ী বাবা ফকির মোহাম্মদ ও ফরিদা বেগমের চতুর্থ সন্তান রফিকুল ইসলামের জন্ম কক্সবাজার জেলায়। সেখানেই উত্তর মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক, মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং পটিয়া সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে। ছোটবেলায় বাবার হাতেই পড়াশোনার হাতেখড়ি তার। জ্ঞানার্জনের ভিতটিও গড়ে ওঠে একমাত্র হাউজ টিউটর বাবার হাত ধরেই। বাবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনার দেখবাল ও অভিভাবকত্বের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় বড় ভাইয়ের ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও যার অবদান ও অনুপ্রেরণা ছিল সবচেয়ে বেশি।

ভালো ফলাফলের রহস্য জানাতে গিয়ে বলেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা, প্রতি কোর্সের একাধিক বই অনুসরণ করা ও নোট প্রস্তুত করে পড়া। যা পড়তেন বিশদভাবে ও বুঝে পড়তেন। জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আলোচনা ও স্যারদের সহায়তা নিতেন।