রামের বিলে ‘বাউত’ উত্সব

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৬

হেলালুর রহমান জুয়েল, চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

চলনবিলের পানি কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে খাল-বিল, নদী-নালার পানিও কমছে। জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে নানা প্রজাতির দেশি মাছ। মাছ ধরার এই সময়টা কাজে লাগাতে চাটমোহরের রামের বিলে শনিবার সকালে বাউত উত্সব শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি শনি ও মঙ্গলবার শৌখিন মত্স্য শিকারিরা বিভিন্ন বিলে মাছ ধরার ‘বাউত উত্সব’ পালন করেন। জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষার পানি বিল থেকে নেমে যাওয়ার শেষ দিকে সাধারণত হেমন্তকালে বিভিন্ন বিল ও নদীতে এমন উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। মৌসুমের শুরুতে শত শত শৌখিন মত্স্য শিকারি মোবাইল ফোনে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিলে মাছ শিকারে আসেন। পলো দিয়ে প্রথম দফা মাছ শিকারের পর পুনরায় কবে কোনো বিলে মাছ শিকারে যাওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রামের বিলে হাজার হাজার শৌখিন মত্স্য শিকারিকে মাছ শিকার করতে দেখা যায়। এর আগে গত ৩ নভেম্বর এ বিলে প্রথম দফায় মাছ ধরার উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, আটঘরিয়া, পাবনা সদর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন রুট হয়ে নসিমন, করিমন, অটোভ্যান, সাইকেল, মোটরসাইকেলযোগে চলে আসেন রামের বিলে। রেললাইনের ধারে গাড়ি রেখে অনেকে পায়ে হেঁটে এসে একযোগে মাছ শিকারে পানিতে নামেন। হাত পলো, পাও পলো, নেট পলো ছাড়াও খেওয়া জাল, ঠেলা জাল, কারেন্ট জাল, ডোরা জাল, কোঁচ, হাত খড়াসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায় শৌখিন মত্স্য শিকারিদের।

ফরিদপুরের হাদল গ্রামের মকবুল হোসেন, চাটমোহরের মহেলার আক্কাস আলী, গুনাইগাছার মতিউর রহমান, গুরুদাসপুরের সাবেদ আলীসহ অন্যরা জানান, প্রায় প্রতি বছরই এ সময় বিভিন্ন বিলে মাছ শিকারে যান তারা। অন্য বছরের তুলনায় এবার মাছ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বিলে পলো দিয়ে মাছ শিকারের আনন্দ অন্য রকম। তারা আরো জানান, মাছ শিকারের সময় অপেক্ষাকৃত ছোটরা থাকেন স্বল্প পানিতে। কারো পলোর মধ্যে মাছ পড়লে অন্যরা মাছটি ধরতে সহায়তা করেন। বিলে মাছ ধরতে আসা পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার আলী বলেন, এটা হলো এ অঞ্চলের মাছ ধরার উত্সব। এ সময় বিলগুলো ফাঁকা থাকে, আবাদ হয় না। পানি থাকা পর্যন্ত বাউত উত্সব চলে।