আমাদের যতো ভাবনা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৮

দেশের প্রায় সব শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে দেশসেরা কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার।

প্রথমবারের মতো লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে এবার শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। জগন্নাথ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের এ নবীনদের অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন- এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি নাম নয়, এটি এমন একটি গভীর অনুভূতি যা তরুণদের মাঝে যোগায় উল্লাস, উচ্ছ্বাস এবং দূর থেকে দূরে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কোনো অনুভূতি প্রকাশের কথা ভাবলেই আমার চোখে ভাসে একটি সবুজ মাঠ, যেখানে একদল শিক্ষার্থী গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে। কারো হাতে গিটার, কারো হাতে বনফুলের বই অথবা কারো গলায় ভেসে আসা ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা...’-এ গানটি। স্বপ্নটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরের নয়, স্বপ্নটা সেদিনের- যেদিন থেকে আমার মস্তিষ্ক সেই হরমোনগুলো সানন্দে নিঃসরণ শুরু করেছে। আজ আমি পাবি­কিয়ান। গর্বিত জবিয়ান। এখন সময়টা সামনে যাওয়ার।

—জেদনী আক্তার জ্যোতি

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোজি।

 

পাঠশালা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে একটাই। বিসিএস, বাংলাদেশ আইন বিভাগ জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জবি শিক্ষার্থীদের সফলতা ঈর্ষণীয়। এই বিশ্বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী খুবই দক্ষ ও বিচক্ষণ। প্রতিষ্ঠানটি জন্ম দিয়েছে কিছু সূর্য সন্তানদের। যারা অবদান রেখেছেন জাতীয় আন্দোলনে। বর্তমানেও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। অসংখ্য মেধাবীদের পদচরণায় প্রতিদিন মুখরিত হয় জবি ক্যাম্পাস। পড়াশোনার পাশাপাশি আড্ডা, গান, বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমে মেতে ওঠে জবি শিক্ষার্থীরা। এরকম একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই গর্বিত।

—রেজাউল করিম

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারার অনুভূতি সত্যিই অবর্ণনীয়। ছোটবেলা থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো এ স্বপ্নকে লালন করতাম। তারুণ্যের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের হাল  ধরবো, অনেক বড় এবং গুণী কিছু মানুষের সান্নিধ্যে আসব, দেশের জন্য কিছু করব এই স্বপ্ন দেখতাম। অবশেষে আমার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন আমিও বলতে পারি, আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যে স্বপ্নগুলো অনেক দূর থেকে হাতছানি দিত, সেই স্বপ্নগুলো এখন অতি সন্নিকটে। যা অতি সন্তর্পণে পূরনীয়। সত্যিই আমি অনেক গর্বিত একজন জবিয়ান হিসেবে। একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে।

—উম্মে হাবিবা তিথি

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ।

ছোট থেকেই বুকের মধ্যে একটা স্বপ্ন     লালন করেছি, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। বিভিন্ন বাঁধা অতিক্রম করেছি হাসিমুখে তবুও স্বপ্নকে মরতে দেইনি। সেই স্বপ্নকে ছোঁয়ার জন্যই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েই ঢাকায় এসে একটি কোচিং এ ভর্তি হই। শুরুতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এত প্রতিযোগিতার মধ্যে আমি পারবতো           আমার স্বপ্নপূরণ করতে! অবশেষে ভর্তি            যুদ্ধে জয়ী হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে প্রথম যেদিন প্রবেশ করি তখন একটু নার্ভাস লাগছিলো। আমার মনে হচ্ছিলো আমি আজও সেই স্বপ্নই দেখছি যেখানে আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী।

—ফারহানা ইসলাম

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা

বিভাগ।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুভূতির সাথে  ঢাকা শহর নামটি জড়িয়ে আছে আমার স্মৃতিতে। বাংলাদেশের  শিক্ষর্থীদের ঢাবির পর দ্বিতীয় পছন্দ থাকে জবি। তাই আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমার মনে হল আমি যেন জীবনের অনেক কিছুই পেয়ে গেছি। বড় ভাই, বোন এবং শিক্ষকদের ভালবাসা। তাদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অনেক কিছু জানা। কাউসার আহমেদ শিবলু স্যার বলেছিলেন- ‘জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন মনে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। তাহলে সাফল্য নিশ্চত। মনে রাখবা, এখানে ভালো শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও শেষে অনেকেই          ঝরে যায়।’

—রিপন মিয়া

ফিন্যান্স বিভাগ।

 

সকলেরই ইচ্ছে থাকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আমার সেই স্বপ্ন  সত্য হয়েছে। দেশের প্রথম সারির একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ             পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই সুযোগ একজন শিক্ষার্থীকে অনেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে  যায়। ভবিষ্যত্ অগ্রযাত্রার প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। দেশসেরা শিক্ষার্থীদের সাথে সব সময় উঠাবসা হচ্ছে, বন্ধুত্ব হচ্ছে এটা অন্যরকম অনুভূতির ব্যাপার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত ধরে নিজের ও সকল শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল হওয়া কামনা করছি। জবিয়ান হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ জবি তোমার কাছে।

—স্বর্ণা দাস

নৃবিজ্ঞান বিভাগ।