সন্ধ্যা নামলেই ভয়ংকর হয়ে ওঠে ওরা

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৯

অস্ত্রসহ ছয় ডাকাত গ্রেফতার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দিনের আলোয় নামমাত্র পেশায় নিয়োজিত থাকলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়ে অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল একটি চক্র। ঐ চক্রের ১৫/২০ সদস্য রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করে আসছিল। গতকাল রবিবার ভোরে র্যাব-১-এর ঢাকার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো—মো. রনি, মো. শাহীন, আপেল মন্ডল, মো. সফিক রহমান ওরফে রাসেল, মো. আব্দুর রহিম ওরফে রফিক ও মো. আল আমিন ওরফে স্বপন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, দুইটি ম্যাগাজিন, চারটি শাবল, একটি কাটার, একটি চাকু, চারটি মোবাইল ফোন, চারটি গরু ও একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মোর্শেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মোর্শেদুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এই দলটির স্থায়ী সদস্য ১৫ থেকে ২০ জন। মো. রনি এই ডাকাত দলের হোতা। সে এই ডাকাত দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত্ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিল।

সাম্প্রতিকসময়ে এই চক্রটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গরুর হাটের পাইকার এবং ক্রেতাদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করত। তাদের দলের চার থেকে পাঁচ জন গরুর হাটের মধ্যে অবস্থান করে টার্গেট নির্ধারণ করে এবং মূল দলটি সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। পরে পাইকাররা গরু ক্রয় করে অথবা হাট থেকে বের হয়ে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের টার্গেট করে পেছনে পেছনে আসতে থাকে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মূল দলকে ডাকাতির টার্গেট বুঝিয়ে দেয়। একপর্যায়ে গরুর পাইকার বা ক্রেতাকে পেছন থেকে অথবা কখনো সামনে থেকে এসে সুবিধাজনক স্থানে গতিরোধ করে ভিকটিমের চোখমুখ বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্যাতন করে সব টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

এছাড়াও চক্রটি স্বর্ণের দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধরনের দোকানে ডাকাতি করে আসছিল। ৮ থেকে ১০ জনের এই চক্রটি সন্ধ্যা নামতেই বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ঘোরাঘুরি করে এলাকায় ভয়ভীতি দেখাত। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নাইটগার্ডকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে এখানে কাজ আছে বলে তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ডাকাতি করে আসছিল।