নতুনে আলোকিত ক্যাম্পাস

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০১

যাদের চোখে-মুখে আনন্দের

ছাপ, অজানাকে জানার আগ্রহ, নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার দৃঢ় সংকল্প সব মিলিয়ে অগ্রজ-অনুজদের উপস্থিতি ক্যাম্পাসে এক উত্সবমুখর

পরিবেশ সৃষ্টি করেছে

  হারুনুর রশিদ

 

সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা কিছু তরুণ-তরুণী যাদের স্বপ্ন আকাশচুম্বী। যাদেরকে শত বাধা প্রদান করেও দমিয়ে রাখা যায় না। এই স্তরে এ সকল তরুণ-তরুণীদের প্রথম ও প্রধান স্বপ্ন থাকে দেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজেদের স্থান করে নেওয়া ও নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ করা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধে কেউ কেউ ঝরে পড়ে আবার কেউবা নিজের যোগ্যতার প্রমাণ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। যারা সুযোগ পায় তারা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা, চেতনা ও বুদ্ধির উন্নতি সাধন করতে পারে এবং নিজের মধ্যে লালিত স্বপ্ন পূরণ করার পথ খুঁজে পায়।

আর সেই স্বপ্ন পূরণের স্থানটি যদি হয় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তাহলে আর কোনো কথাই নেই। যার  সবুজের সমারোহে আমরা হাসি, শান্ত চত্বর, শহীদ মিনার, কাঁঠালতলা, টিএসএস এই স্থানগুলোর অলৌকিক টানে আমি প্রতিনিয়ত ছুটে আসি। এবারো বছরের প্রথম দিনেই নতুন বছর নতুন স্বপ্নকে সামনে রেখে শীতের এই কুয়াশাচ্ছন্ন মনোমুগ্ধকর সকালে প্রবীণদের পাশাপাশি এসে হাজির হয়েছে হাজারো নতুন মুখ। এ যেন বসন্ত আসার আগেই বসন্তের সুবাতাস বইছে সর্বত্র। যাদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ, অজানাকে জানার আগ্রহ, নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার দৃঢ় সংকল্প সব মিলিয়ে অগ্রজ-অনুজদের উপস্থিতি ক্যাম্পাসে এক উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

শহীদ মিনারে যেতেই দেখা গেলো ছবি তোলায় ব্যস্ত একদল তরুণ-তরুণী। শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তারা কেউ কেউ দলগত ছবি তুলছে আবার কেউবা শহীদ মিনারকে পিছে রেখে সেলফি তোলায় ব্যস্ত।

এ ছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর, শান্ত চত্বর, কাঁঠালতলা ক্যাফটেরিয়া, অবকাশ ভবন এবং টিএসসি ঘুরে দেখা গেলো নবীনদের পদচারণায় মুখরিত সর্বত্র। কেউ নিজেদের মধ্যে আড্ডায় ব্যস্ত আবার কেউবা সিনিয়রদের সাথে পরিচয় হতে ব্যস্ত। একাডেমিক ভবনের সামনে যেতেই দেখা গেলো ওরিয়েন্টেশন ক্লাস শেষে ফুল হাতে বের হচ্ছে কয়েকদল নবীন শিক্ষার্থীরা। তারা অনেকে নিজেদের মধ্যে পরিচিত হতে ব্যস্ত। চোখে-মুখে আনন্দের উদ্যোম। প্রবীণদেন কেউ কেউ আবার মনের সুখে গান ধরেছে। ক্যাম্পাসের পুরোটা সময় বিরাজ করছে এক আনন্দঘন পরিবেশ।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের নবীন শিক্ষার্থী অন্বেষা দেবী বলেন, ‘প্রতিটা মানুষের কিছু স্বপ্ন থাকে। তেমনি আমারও স্বপ্ন ছিলো আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো। যখন জানতে পারলাম আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি আমার মনে হয়েছে আমি নিজের স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে। কিছুটা নার্ভাস ছিলাম যে কি হবে, কেমন হবে নতুন জীবনের পথচলা। আমার ভয়টা দূর হলো যখন দেখলাম এখানে প্রতিটা বড় ভাই, বন্ধু সবাই আপন করে নিয়েছে আমায়।’ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তানভীর ব্যাংকার হতে চায়। সমাজকর্ম বিভাগের সাবরিহা আজম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার হতে চায়। দেশের আইন শৃঙ্খলা সুষ্ঠু ও দুর্নীতিমুক্ত করতে চায়। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব শাহরিয়ার বলেন, আমি দেশের প্রধান বিচারপতি হতে চাই। শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের হৈমন্তি সরকার ভালো ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চায়। সবাই নিজেদের লক্ষ্য পূরণে দৃঢ় প্রত্যয়ী। তারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এসব স্বপ্ন তাদেরকেই মানায়।