ফার্স্ট লেডি হলেও শিক্ষকতা ছাড়ছেন না জিল বাইডেন

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৭

তিনি পেশায় শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত সমাজসেবামূলক নানা কাজের সঙ্গে। ফার্স্ট লেডি হওয়ার পরেও তার জীবনযাত্রা যে বিশেষ পালটাবে না, তা আগেভাগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন জিল বাইডেন। যেমন পরিবর্তন আসেনি আট বছর আমেরিকার সেকেন্ড লেডি থাকার সময়েও। ওয়াকিবহাল শিবিরের মতে, ২০০ বছরেরও বেশি আমেরিকার ইতিহাসে এমন নজির বিরল, যেখানে হোয়াইট হাউজের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি পারিশ্রমিক নিয়ে অন্য কাজও করবেন ফার্স্ট লেডি।

পদাধিকারী হিসেবে আমেরিকার ফার্স্ট লেডি হোয়াইট হাউজের ‘হোস্ট’। নিজস্ব অফিসের পাশাপাশি তার অধীনে থাকেন চিফ অব স্টাফ, প্রেস সেক্রেটারি, হোয়াইট হাউজ সোশ্যাল সেক্রেটারি, চিফ ফ্লোরাল ডিজাইনার এবং তাদের অধীন কর্মীরা। রাজনৈতিক ছাড়া সামাজিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্বভার থাকে তার ওপর। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিদেশ সফরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গী হন ফার্স্ট লেডি। মেলানিয়া ট্রাম্প বা মিশেল ওবামারা সেভাবেই ভারত সফরে এসেছিলেন।

২০০৮ থেকে ’১৬ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে জো বাইডেন ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। জিল বাইডেন স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন সেকেন্ড লেডি। সেই সময়েও তিনি কলেজের শিক্ষকতা ও সমাজসেবামূলক কাজ চালিয়ে গেছেন। গত কয়েক দশক ধরে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত জিল। গত আগস্টেই তিনি বলেন, আমি অনেক অভিবাসী এবং শরণার্থীকে পড়াই। তাদের পড়াতে, তাদের সঙ্গে মিশতে আমি ভালোবাসি। আমরা হোয়াইট হাউজে গেলেও কাজ ছাড়ছি না। অন্যদিকে স্ত্রী সম্পর্কে বাইডেন একটি সভায় বলেন, আপনাদের সেই প্রিয় শিক্ষকটির কথা ভাবুন, যিনি নিজেকে বিশ্বাস করার পাশাপাশি আপনাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করেছিলেন। জিল বাইডেন তেমনই এক ফার্স্ট লেডি হবেন। জিল অবশ্য নিজেকে ফার্স্ট লেডি বা সেকেন্ড লেডির চেয়েও বেশি পছন্দ ও গর্ব করেন নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতেই। জিল জ্যাকবসের জন্ম ১৯৫১ সালে নিউ জার্সিতে। বড় হয়ে উঠেছেন ফিলাডেলফিয়ায়। ৬৯ বছরের জিল ছিলেন পাঁচ বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। প্রথমে তিনি বিয়ে করেন সাবেক ফুটবলার বিল স্টিভেনসনকে। পরে  ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন বাইডেনকে। —আনন্দবাজার পত্রিকা