দেশের আমদানির শতকরা ৯২ ভাগ এবং রপ্তানির ৯৫ ভাগেরও বেশি চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে হয়। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল সহায়ক মাধ্যম হিসেবে এটি একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্ডিন্যান্সেও তাই এটিকে সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের ন্যায় কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তার সার্ভিসের মাধ্যমে যে চার্জ পেয়ে থাকে সেটাই এর আর্থিক ভিত্তি। এখান থেকে বছরে মোট আয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হয়েছিল ২ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সব খরচ ও সরকারি নির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রদান শেষে তা এসে দাঁড়ায় ৮০১ কোটি টাকায়।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান যা সরকার থেকে কোনো অর্থ পায় না। নিজের আয় থেকেই নতুন বন্দর নির্মাণ, সম্প্রসারণসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। বন্দরের নিজস্ব আয়ের ওপর দাঁড়ানোর কারণেই অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে প্রশংসিত হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসও চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের এক তৃতীয়াংশ রাজস্ব আদায় করে থাকে। চট্টগ্রাম কাস্টমস ছাড়া এই বন্দরই চট্টগ্রামে দেশের অন্যতম প্রধান আয়ের উত্স।
পুলিশের পক্ষ থেকে ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বন্দর এলাকায় তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যয় হওয়া অর্থ বন্দর থেকে দাবি করা হচ্ছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী বন্দর থেকে তাদের পাওনা ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের (বন্দর) অফিস কাম বাসা, বন্দর থানা, পতেঙ্গা থানার অবকাঠামো নির্মাণ, বিভিন্ন সময় যানবাহন সরবরাহ, বন্দরের পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পুলিশ যখন যে সহায়তা চায় বন্দর তা প্রদানে চেষ্টা করে থাকে। অপর দিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব পালনরত খোরশেদ আলম সুজনও চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের অন্তত এক শতাংশ প্রদানের দাবি তুলেছেন সিটি করপোরেশনের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দরকে ভূমিকা পালনের দাবি জানানো হচ্ছে। যদিও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের এলাকার সড়ক, বিদ্যুত্সহ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা তারা নিজেরাই করে থাকেন। তার পরও সিটি করপোরেশনকে প্রতি বছর ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাইভেট ফান্ডসহ বন্দরের বিপুলসংখ্যক চলমান ও মেয়াদি প্রকল্পসমূহের খরচ সংস্থান বাবদ ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহে রাখা হয়। বন্দরের টাকা পাওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যেও এক প্রকার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। ব্যাংকের টাকার মুনাফা থেকে বিরাট আয় পেয়ে থাকে বন্দর। কিন্তু সরকার সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আইন করে বিভিন্ন সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যাংকে রাখা তাদের ৩ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিলে দিচ্ছে।
