রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে সিলেটের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গতকাল রবিবার সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম) আদালতের বিচারক হারুনুর রশিদ এ আদেশ দেন। সিলেট জৈন্তাপুরের পাথর ব্যবসায়ী ও মাওলা স্টোন ক্রাশার মিলের স্বত্বাধিকারী শামসুল মাওলার দায়ের করা প্রতারণা মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি হয়। গত ৪ মার্চ সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম) আদালতে সাহেদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার তিনটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন শামসুল। গতকাল সেই মামলার শুনানিকালে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সাহেদের জামিনের আবেদন করলে তা নাকচ হয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে—গ্রেফতারের আগে সিলেটের ব্যবসায়ীদের ঘিরে বিশাল প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন সাহেদ। সেই ফাঁদে নিঃস্ব হয়েছেন সেখানকার বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ী। এর মধ্যে শামসুল মাওলা একজন। তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার পাথর নিয়ে পুরো টাকাটাই আত্মসাত্ করেন সাহেদ। শামসুল জানান, গত বছর হঠাত্ একদিন ঢাকার এক ভদ্রলোক তার কাছ থেকে এক গাড়ি পাথর কেনেন। যাথারীতি নগদে বিলও পরিশোধ করেন তিনি। যাওয়ার সময় তিনি শামসুল মাওলাকে ঢাকায় গিয়ে তার ‘বসের’ সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেন। বসের (সাহেদ) সঙ্গে দেখা করলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য পাথর সরবরাহের বড় একটি কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেবেন বলে শামসুলকে জানান ঐ ব্যক্তি। শামসুল সরল বিশ্বাসে ঢাকায় গিয়ে সাহেদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সাহেদ নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয় দেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে শামসুলের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকার পাথর সরবরাহের চুক্তি করেন সাহেদ। পাথর দেওয়ার পর বিল আনতে ঢাকায় গেলে তাকে মোট ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার তিনটি চেক ধরিয়ে দেন সাহেদ। কিন্তু চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে গিয়ে দেখেন দুটি অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। আর অন্য চেকটি পুরোপুরি ভুয়া। বিষয়টি শাহেদকে ফোনে জানালে তিনি তাকে উলটো গালিগালাজ করে ‘বাড়াবাড়ি’ করতে নিষেধ করেন। হতভম্ব শামসুল ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। কিন্তু জিডির তদন্ত কর্মকর্তা সাহেদকে ফোন দিলে তাকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ফের ঢাকায় ডেকে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে তিনি সিলেটে মামলা করেন।
করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, অর্থ আত্মসাত্, প্রতারণাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠার পর গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদ করিমকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতারের পর ১০ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ ীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
