রংপুরের হারাগাছে চাঞ্চল্যকর ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার বিকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন। এদিকে রিমান্ডে রাহেনুল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা মামলার বস্তুগত তথ্যের সঙ্গে মেলানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই।
রংপুর আদালতের মেট্রোপলিটন কোর্ট ইন্সপেক্টর নাজমুল কাদের জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কড়া পুলিশি পাহারায় রবিবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফজলে এলাহীর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি ও জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ৪ নভেম্বর বুধবার বিকালে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শওকত আলী। এছাড়াও তিন দিনের রিমান্ড শেষে মামলার আসামি সুমাইয়া পারভীন মেঘলা ও সম্পাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের এসপি এ বি এম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
ঐ ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ডিবি পুলিশের এএসআই দুই সন্তানের জনক রাহেনুল ইসলাম হারাগাছ থানায় কর্মরত অবস্থায় অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ময়নাকুঠি কচুটারী এলাকার এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে মেঘলার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে নিজে ধর্ষণের পর আরো কয়েক জনকে ধর্ষণের সুযোগ করে দেন। নির্যাতিতা ছাত্রীর মা বলেন, দুই সন্তানের জনক হলেও নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে রাহেনুল আমার মেয়েকে নিজে এবং অন্যদের দিয়ে সর্বনাশ করিয়েছে। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
