অস্থির তারুণ্যের শোনার মতো ধৈর্য আছে তো

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৮

 

তরুণদের মধ্যে বরাবরই একটু অস্থিরতা কাজ করে। অন্যের কথা শোনার মতো অতটা ধৈর্য তাদের অনেকেরই থাকে না, সে ক্ষেত্রে অন্যকে অনেকটা অমর্যাদাই করা হয়। অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা মানেই তাকে সম্মান করা, তার অনুভূতির প্রতি সহমর্মী হয়ে ওঠা। আর এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর হয়ে উঠবে,

তা-ই নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার

জীবনে যারা সফল হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই বলার চেয়ে শুনতেন বেশি। সবাই চায়, আপনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আর ভালো বক্তার চেয়ে ভালো শ্রোতা অন্যকে অনেক বেশি প্রভাবিত করতে পারে। তবে ভালো শ্রোতা হতে হলে আপনার থাকতে হবে জানার আগ্রহ, ধৈর্য ও মনোযোগ। আবার আপনি যখন কথা বলবেন, তখন মনে রাখবেন সবাই আপনার সঙ্গে একমত হবে এমন নয়। সে ক্ষেত্রে তর্ক এড়িয়ে চলুন। যুক্তিহীন তর্ক করে সময় নষ্ট করে বোকা আর আহাম্মকেরা। আর বুদ্ধিমানরা এ সময় উপরে ওঠার সিঁড়ি খোঁজে। মনে রাখবেন, আমাদের একটা মুখ অথচ দুইটা কান থাকার কারণ যাতে আমরা যতটা কথা বলি তার থেকে বেশি শুনতে পাই। এতে আপনার জ্ঞানের পরিধি যেমন বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে আপনার ব্যক্তিত্ব। সেই সবচেয়ে ভালো বক্তা, যে শ্রোতা হিসেবে মনোযোগী। কথাটা জানা না থাকলে জেনে নিন। আপনি হয়তো ভালো বক্তব্য দিতে জানেন না, কিন্তু ভালো শ্রোতা হলে একদিন ঠিকই ভালো বক্তব্য দিতে পারবেন। কেননা শুনতে শুনতেই মানুষ প্রাজ্ঞ হয়ে ওঠে। শ্রোতাকে কী বলবেন? শ্রোতা আকৃষ্ট হয়, এমন কথাই তো বলতে হবে তাই না? শ্রোতাকে আকৃষ্ট করতে পারে এমন শব্দ প্রয়োগ করুন। শ্রোতাদের সামনে আপনি যা বলছেন, তা কি তিনি শুনে মজা পাচ্ছেন নাকি কষ্ট করে গলাধঃকরণ করছেন; তা জানার চেষ্টা করুন। তাদের ভালো না লাগলে বিষয়কে দীর্ঘায়িত করবেন না। সেরা হতে গেলে কিছু কৌশল তো অবলম্বন করতেই হয়। শ্রোতাকে মজার মজার কথা, কৌতুক দিয়ে জমিয়ে রাখতে হবে। যাতে তারা আপনার কথার বাইরে না যায়। আর যেসব বন্ধু আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে শত্রুতা করতে চাইবে, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না কখনো। ভালো শ্রোতার শক্তি আপনি মুখ খোলা রেখে কখনো ভালো শ্রোতা হতে পারবেন না। মুখে আপনি যা-ই বলুন না কেন, তা আপনি ভালো করেই জানেন, তাই বলতে পারছেন। কিন্তু যা জানেন না তা জানতে হলে আপনাকে চুপ করতেই হবে।

n একজন ভালো শ্রোতা সমস্যা সমাধানে অতুলনীয় ক্ষমতার অধিকারী হন।

n চমত্কার ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন। n ভালো শ্রোতা সহজেই অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারেন। n ভালো শ্রোতাকে সবাই পছন্দ করে। n অজানা অনেক কিছু জানা যায়। n অনেক ধৈর্যশীল হন।

ভালো শ্রোতা হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ

n মনোযোগের প্রধান বাহক হলো চোখ। চোখ দেখে একজন মানুষের অনেকটাই আন্দাজ করা যায়। আপনি শ্রোতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন কি না, তাও আপনার চোখ দেখেই বোঝা যাবে। সুতরাং বক্তার চোখে চোখ রেখে কথা শুনুন।

n যে বিষয়ে কথা হচ্ছে, সে বিষয়ে আপনার কোনো মতামত থাকলে আলোচনা করুন। এতে বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার আগ্রহের প্রমাণ পাওয়া যায়। বক্তাও খুশি হন।

n বক্তা যখন কথা বলছেন, তার মাঝখানে হঠাত্ থামিয়ে দিয়ে কিছু বলবেন না। কিছু বলার আগে তার বক্তব্য শেষ হতে দিন।

n বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে অতিরিক্ত কথা বলা ঠিক নয়। বক্তার স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নিশ্চিত করাই ভালো শ্রোতার প্রধান কর্তব্য।

n বক্তার কথা শোনার সময় এমনভাবে বসা উচিত, যাতে আপনি বক্তার চেহারা ঠিকমতো দেখতে পান (বিশেষ করে চোখ দেখতে পাওয়া দরকার। এতে বক্তার বক্তব্যের আবেগময় বহিঃপ্রকাশও আপনার দৃষ্টি এড়াবে না) আর বক্তাও যেন আপনার চেহারা দেখতে পান।

n আলাপ চলাকালে মাঝেমধ্যে ছোট ছোট প্রাসঙ্গিক শব্দ উচ্চারণ করে আপনার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করুন। যেমন :‘তাই নাকি?’, ‘বলেন কী!’, ‘সর্বনাশ, কী সাংঘাতিক!’, ‘নিশ্চয়ই’, ‘বাহ!’, ‘এটা খুব ভালো বলেছেন!’, ‘কী করে হলো?’ ইত্যাদি। এতে বক্তা আপনার মনোযোগ বুঝতে পারবেন।

n একজন আদর্শ শ্রোতা কখনো কখনো বক্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করেন। আলোচনা যাতে প্রাসঙ্গিক থাকে সে জন্য বারবার শ্রোতাকে সতর্ক থেকে বক্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

n একজন ভালো শ্রোতা ভালো স্মরণশক্তির অধিকারীও হন। বক্তা মাঝেমধ্যেই কথা বলতে গিয়ে কী প্রসঙ্গে আলোচনা করতে চাচ্ছিলেন সেটা ভুলে যান, তখন শ্রোতাকে মনে করিয়ে দিতে হয়। তা ছাড়া আলোচনা শেষ হওয়ার পরও নানা কারণে কী বিষয়ে কী কী আলোচনা হলো তা পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন পড়ে।

n গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় একজন ভালো শ্রোতা কাগজ-কলম নিয়ে বসবেন। প্রয়োজনীয় অংশ নোট নেবেন। প্রয়োজন হলে রেকর্ডারও ব্যবহার করতে পারেন।

n যদি এমন হয় যে বক্তার কথা শুনতে ভালো লাগছে না কিন্তু না শুনে উপায় নেই, আবার এটাও প্রমাণ করতে হবে যে আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন, তাহলে প্রথমত এমনভাবে বসুন, যাতে আপানর মুখে সরাসরি আলো না পড়ে। আর আপনার একমাত্র কাজ হবে তার চোখে চোখ রেখে মাঝেমধ্যে সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে যাওয়া।

আমরা বেশি কথা বলি কেন

n বক্তা যদি নিজেকে জ্ঞানী মনে করেন কিংবা শ্রোতাকে তুলনামূলকভাবে অজ্ঞ মনে করেন, তাহলে বক্তা বেশি কথা বলেন। বক্তা মনে করেন, শ্রোতা যে বিষয়গুলো জানেন না (অথচ আমি জানি), সেগুলো তাকে জানানো দরকার।

n বেশি কথা বলার আরেক কারণ হীনম্মন্যতা। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কথাই হয় নিজের গুণকীর্তনবিষয়ক, যাতে প্রমাণ হয়, শ্রোতার চেয়ে বা শ্রোতার মতো বক্তাও মর্যাদা, ক্ষমতা বা জ্ঞানসম্পন্ন।

n একাকিত্ব। বক্তা দিনের বেশির ভাগ সময় একা কাটালে তার মধ্যে বেশি কথা বলার প্রবণতা তৈরি হয়।

n কারও মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য বক্তা বেশি কথা বলতে পারেন।

n পারিবারিক বা পেশাগত কারণে বেশি কথা বলা অভ্যাস হয়ে গেলে; যেমন :রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, বিক্রয়কর্মী ইত্যাদি।