সামাজিক সংগঠন ‘শুনতে কি পাও’-এর উদ্যোগে গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি ‘ক্লিক ফর অ্যা স্মাইল’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রয়াসে বেগ-আর্ট ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফির সহযোগিতায় ঢাকার ধানমন্ডিস্থ দৃক গ্যালারিতে এ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সৌখিন আলোকচিত্রীদের তোলা হাজারখানেক ছবি থেকে বাছাই করা ৭৯টি ছবি এ প্রদর্শনীতে স্থান পায়। বিচারক ছিলেন ছিলেন বেগ-আর্ট ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফির পরিচালক ইমতিয়াজ আলম বেগ ও কো-অর্ডিনেটর মঈন আলী। এ ছাড়াও সংগঠনটির কার্যক্রমের বেশকিছু ছবি এ সময় প্রদর্শন করা হয়।
মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ২০১৩ সালে শুরু হয় ‘শুনতে কি পাও’-এর কার্যক্রম। সেবার রোজার ঈদের আগে ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আড়াই শ পথশিশুকে ঈদের কাপড়, মেহেদি দেওয়া ও ইফতার করানো ছিল তাদের প্রথম কাজ। সমাজের জন্য কিছু করার মনোভাব নিয়ে একদল স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী নিয়মিত নানারকম কাজ করে যাচ্ছেন—দুর্গত মানুষকে সহায়তা করা, নতুন জামা কিনে দেওয়া, পথশিশুদের মধ্যে শিক্ষাউপকরণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প, দরিদ্র নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ, পথশিশুদের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ব্লাড গ্রুপিং ও ডেন্টাল চেকআপসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। প্রায় ৩ হাজার রক্তদাতার তথ্য নিয়ে তারা ডাটাবেজ তৈরি করেছেন, যা জরুরি প্রয়োজনে কাজে লাগছে অনেকের। ‘শুনতে কি পাও’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রান্তিক চৌধুরী অর্ঘ্য বললেন, ‘আমাদের আরও দুটি কার্যক্রম হলো—শিক্ষার আলো পাবে সবাই এবং আলোকিত শিশু স্কুল। প্রথমটির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করা হয় ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়, আর দ্বিতীয় প্রজেক্টের আওতায় দেশের প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলে শিশুদের জন্য পাঠাগার গড়ার কাজ করছি। এজন্য প্রচুর অর্থের দরকার, তা সংগ্রহের জন্যই আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ক্লিক ফর অ্যা স্মাইল” আয়োজন করা হয়েছে।’ জানা গেল, বিক্রি হওয়া ছবিগুলোর দাম থেকে অর্ধেক দেওয়া হচ্ছে আলোকচিত্রীকে, বাকিটা রাখা হচ্ছে সংগঠনের ফান্ডে। ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর সমাপণী অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সাইফুল হক, এটিএন বাংলার নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুনসহ আরও অনেকে। প্রদর্শনীতে গোল্ড স্পন্সর ছিল আলোকচিত্রীদের অনলাইন প্লাটফর্ম ‘পিক্সমামা’। স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড পার্টনার ছিল ম্যানফ্রোটো, ফুড পার্টনার থাইম রেস্টুরেন্ট ও মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দৈনিক ইত্তেফাক ও রেডিও নেক্সট।
